গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নাশকতা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান ১ নম্বরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় গাজীপুরের ছাত্রদলের এক নেতার সঙ্গে মিজানের কথপোকথনের দুটি ক্লিপও জব্দ করা হয়।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেনি। ডিবি পুলিশের একটি অভিযান ছিল। তারা গ্রেফতার করতে পারে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, ‘মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় একাধিক মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলা হচ্ছে।’

জানা গেছে, রাতে যখন ডিবি পুলিশের সদস্যরা মিজানকে আটক করতে তার বাসায় যান, তখন তিনি ফেসবুকে লাইভে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে তার পরিবারের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কন্সপিরেসি লিক নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে মেজর (অব.) মিজানের কথপোকথনের দুটি অডিও প্রকাশ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই অডিও ক্লিপ দুটি যে মেজর অব. মিজানের তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফোনের অন্য প্রাপ্তে যে ব্যক্তি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তার নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের যুবদলের স্থানীয় নেতা।

অডিও- এক

– স্লামালাইকুম।

মেজর অব. মিজানুর রহমান: ওয়ালাইকুম সালাম। কেমন আছো?

– আছি মোটামুটি।

মেজর মিজান: আচ্ছা, তোমাদের এখান থেকে যে কাশিমপুর ইউনিয়নের যে ভোটকেন্দ্র, কতটুক দূর?

– মানে আমাদের পাশেরডা হইলো এক নম্বর ওয়ার্ড।

মেজর মিজান: হ্যাঁ, এটা তোমাদের এখান থেকে কতটুকু দূর, ভোটকেন্দ্রটা?

– এই ১৮ কিলো হইবো। এক নম্বর ওয়ার্ডে কেন্দ্র হইলো তিনটা।

মেজর মিজান: আচ্ছা, ওখানে তোমাদের ক্লোজ বন্ধু-বান্ধব আছে?

– হ্যাঁ।

মেজর মিজান: আচ্ছা, এখানে আমাকে একটা ছেলে, পারলে দু্টই ছেলে দাও। যারা আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগিয়ে ঘুরতে পারবে। এরকম কিছু ছেলে ম্যানেজ করতে পারবা?

– হ্যাঁ, এরকম আছে।

মেজর মিজান: আছে? প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের লোক নাও, যারা মনে মনে বিএনপি। আছে এমন?

– জি আছে।

মেজর মিজান: তিনটা ছেলে সিলেক্ট করো। তিনটা ছেলে সিলেক্ট করো, হ্যাঁ? ওরা নৌকার ব্যানার নিয়ে ঘুরবে । ওদের আমি বলে দেবো। ওদের টাকা-পয়সা দিয়ে দেবোনে। আমি ইলেকশনের দিন যন্ত্রপাতি দিয়ে দেবোনে। তুমি ছেলে তিনটা আগে সিলেক্ট করো। তিন সেন্টারের জন্য তিনজন। ওকে?

-ওকে?

মেজর মিজান: ওকে। শোনো, শোনো শোনো শোনো। যে পোলিং সেন্টারটা, মানে যেকোনও তিনটা পোলিং সেন্টারের যেকোনও একটা সেন্টারের পাশে আমাদের লোকের বাড়ি থাকতে হবে। যে বাড়ির জানালার পাশে বসে… দোতলা কিংবা তিনতলা বাড়ি থাকলে ভালো হয়।

– আমি রেডি করবোনে ।

মেজর মিজান: হ হ রেডি করো, আর তিনটা ছেলেকে রাখবা, অন্য কাজে। ওই তিনটা ছেলে আওয়ামী লীগের ব্যাচ লাগিয়ে ঘুরবে।

– আচ্ছা, ঠিক আছে।

মেজর মিজান: আচ্ছা, ঠিক আছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here