চার বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। তিন মিনিটেই মেসির গোল। চার মিনিটে মুসার গোল। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির দ্বিতীয় গোল। ২-১ এ লিড আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মুসার গোলে নাইজেরিয়ার সমতা। ৫০ মিনিটে মার্কোস রোহোর জয়সূচক গোল। জয় আর্জেন্টিনার।

সেই চিত্র ঘুরে ফিরে রাশিয়া বিশ্বকাপে। গোলের তালিকায় মেসি ও রোহো থাকলেও চিত্রনাট্যে খানিকটা বদল, মাঠে থাকলেও ঝলক দেখাতে পারেনি আহমেদ মুসা। পাননি গোলের দেখা। হেরেছে তার দলও। একটি পেনাল্টিতে মোজেসের গোল আশা জাগালেও ৮৬ মিনিটে রোহের বুলেট গতির শট ভাঙে আফ্রিকানদের সব আশা।

এমন জয় আর্জেন্টিনার জন্য ছিল খুবই প্রার্থিত। পাশাপাশি আইসল্যান্ডের ড্র কামনা। ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে আইসল্যান্ডকে হারিয়ে সেই কাজটি করে রেখেছিল। রোহো ঝলকে নিজেদের জয়টা তুলে নেয় আর্জেন্টিনাও। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রথম জয়। চলতি বিশ্বকাপে মেসির প্রথম গোল। বিশ্বকাপে এর আগে মেসির শেষ গোল সেই ব্রাজিলেই, গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধেই। এখানেও মিল।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে নক আউট পর্বে আর্জেন্টিনা পেতে পারত অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল ডেনমার্কের। তবে রানার্স আপ হওয়ায় মোকাবিলা করতে হবে ১৯৯৮ বি্বেকাপ জয়ী ফ্রান্সের। যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাও আবার নক আউট পর্বের শুরুর দিনেই, ৩০ জুন। রাত আটটায় কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার প্রথম লড়াই উরুগুয়ে-পর্তুগালের। রাত ১২টায় আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স মহারণ।

গ্রুপ পর্ব উতরাতে পেরেই উচ্ছাসে ভাসছে গোটা আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার ম্যাচের চাপ সহ্য করতে পারেননি। হাসপাতালে যেতে হয়েছে তাকে। পরে যদিও টুইট করেছেন, ‘আমি ভালো আছি।’ মিতভাষী মেসিও এক গাদা কথা বলেছেন ম্যাচের পর। যেখানে ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন, আর তিনি আমাদের ছেড়ে যাবেন না। জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল।’

ফ্রান্স দুই জয় ও এক ড্রয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নাম লিখিয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। সেখানে আর্জেন্টিনার সবে জ্বলে উঠা শুরু করেছে। তারপরও কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে কী করণীয় তা নাকি জানা আছে লিওনেল মেসির, ‘আমি জানি, আমাদের কী করতে হবে। কোনও সন্দেহ নেই, এটা খুব কঠিন একটি ম্যাচ হবে।’

আর্জেন্টিনার জয়ের নায়ক রোহো নিজের গোলটি উৎসর্গ করেছেন নিজ পরিবার ও আর্জেন্টিনাকে। তার মতে, ‘বিশ্বকাপ যাত্রা সবে শুরু।’ বিষয়টি অনেকটা তাই। কারণ ধীরে ধীরে স্বরুপে ফিরছে আলবিসেলেস্তারা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here