পিএসজির দুরন্ত দেশের হয়ে ফর্মটা বয়ে এনেছেন রাশিয়ায়। দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ফুটবল মহাযজ্ঞের সুবজ ঘাসের মাঠে। দ্যুতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন সেলেসাও শিবিরের হয়ে। লড়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ানরে হেক্সা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিনিয়ে নেয়ার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। তিনি থিয়াগো সিলভা।

সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত আর রাশিয়ান চিকিৎসকদের আন্তরিকতা না থাকলে দৃশ্যপটটা এমন নাও হতে পারতো। ৩৩ বছরের ব্রাজিলিয়ান সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হতে পারতেন চির শান্তির পরলোকের বাসিন্দা! অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়! এমন তথ্য শুনলে বিস্মিত না হয়ে উপায় আছে। বিশদ কারণ জানতে ইচ্ছে করছে, তাই না? তাহলে আর দেরি কেন? জেনে নেয়া যাক হেতুটা।

ঘটনা ২০০৫ সালের জানুয়ারির। পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোর রিজার্ভ দল পোর্তো বি-র হয়ে একটি ম্যাচও খেলেননি। কিন্তু তারপরও অজ্ঞাত কারণেই ৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ফি-তে সিলভা ধারে খেলতে যান এফসি ডায়নামো মস্কোতে। কিন্তু দুর্ভাগ্য সিলভার একটি ম্যাচও খেলা হয়নি রাশিয়ান ক্লাবটির হয়ে। মস্কোতে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করবেন কী। উল্টো অসুস্থ হয়ে পড়েন।

ক্লাবের রুশ চিকিৎসকরা হতবাক হয়ে দেখলেন তাদের নতুন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার সিলভা খুব দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। তারা আরো হতবাক হয়ে পড়েন, যখন জানতে পারেন প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই নতুন ফুটবলারকে নিয়ে আসা হয়েছে। সিলভা খুবই অসুস্থ ছিলেন। উচ্চ তাপমাত্রা, কাশি আর প্রচুর ঘাম দিয়ে তার শরীর অসুস্থতার জানান দেয়। থিয়াগো সিলভা তখন মৃত্যুশয্যায়। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন পেয়ে চিকিৎসকদের চোখ চড়কগাছ হওয়ার যোগাড়, অন্তত ছয় মাস আগে যক্ষ্মার ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হয়েছে তার শরীরে। রাশিয়ার মাটিতে যে চিকিৎসকরা শুশ্রুষা দিয়েছেন, তারাই সিলভার পরিবারকে এমন তথ্য দেন।

নিজের চিকিৎসা নিয়ে সিলভা বলেন, ‘আমি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম ছয় মাস। আমার ওজন শ কেজি বেড়ে গিয়েছিল। হাসপাতালের অন্য রোগীরা যেখানে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। কেউ খেতে চাইতো না। সেখানে আমি সব সময় ক্ষুধার্ত থাকতাম। মা বলতো আমাকে খেলে নাকি অসুস্থ মনে হয় না। কিন্তু চিকিৎসকরা হাঁটতে বললেও আমি চলাফেরা করতে পারতাম না। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় একাই থাকতে হতো আমাকে। শুধু খেলতে পারতাম কম্পিউটার গেম। ঢু মারতে পারতাম ইন্টারনেটে। এক চিকিৎসক এসে দিনে তিন থেকে চার বার ইনজেকশন দিতেন। সঙ্গে ছিল ১০-১৫টি ট্যাবলেট।’

যক্ষ্মা রোগ এতোটাই মারাত্মক ভাবে সিলভাকে পেয়ে বসেছিল যে। এ তারকা ফুটবলারকে বাঁচাতে ফুসফুসের কিছু অংশ কেটে ফেলে দিতে চেয়ে ছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু বাঁধ সাধেন তার মা অ্যাঞ্জেলা ও স্ত্রী ইসাবেল। সিলভার ফুটবল ক্যারিয়ারের স্বপ্ন শেষ হয়ে যেতে পারে এই ভয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত থেকে শেষ মুহূর্তে পিছু হটেন তারা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here