এর আগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে দেশের লজ্জাজনক হার দেখে কেঁদেছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু গতকাল নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে মেসি-হিগুয়েনদের খেলা ও জয় উদযাপনের উত্তেজনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। নিতে হয় হাসপাতালেও।

জানা গেছে, গতকাল ম্যাচ শুরুর বেশ কিছুক্ষণ আগেই স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান ম্যারাডোনা। এক নাইজিরীয় তরুণীর সঙ্গে কোমর দোলাতেও দেখা যায় তাকে। কিন্তু খেলা যত গড়ালো, নিজের উপর যেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন তিনি। খেলা শেষে হয়ে পড়লেন অসুস্থ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো তাকে।

মেসি গোল করার পর ম্যারাডোনার উদযাপন

ম্যাচের সময় ১৪ মিনিটের মাথায় মেসির ডানপায়ের শট জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই দাঁড়িয়ে দু’হাত বুকে চেপে ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলেন মারাদোনা। হয়তো এটা ফুটবল ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানানোর পদ্ধতি তার।

খেলা যত গড়াল, দেখা গেল আরও নানা রূপ। কখনও দাঁড়িয়ে সমর্থকদের সঙ্গে বিতর্কে জড়াচ্ছেন, কখনও বা অবসন্ন হয়ে প্রায় ঘুমিয়ে পড়ছেন সিটে। দ্বিতীয়ার্ধে নাইজিরিয়া গোল শোধ করার পরে উত্তেজনায় অস্থির হয়ে পড়েছিলেন ম্যারাডোনা।

কখনো অবসন্ন হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি

সব বাঁধ ভাঙল মার্কোস রোহোর জয়সূচক গোলের পর। নাইজিরীয় সমর্থকদের দিকে তার ‘মধ্যমা’ প্রদর্শন ঘিরে ইতিমধ্যেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রিও ফার্ডিন্যান্ড থেকে গ্যারি লিনেকার, কেউ মেনে নিতে পারেননি তার এই অসৌজন্যতাকে। কিন্তু সব ছাপিয়ে গেল খেলা শেষ হওয়ার পর।

খেলা শেষ হওয়ার পরেই নাকি আচমকাই ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৮৬ সালের বিশ্বকাপের এই নায়ক। এমনকি হাঁটতেও পারছিলেন না। পরে সঙ্গীরা ধরাধরি করে ভিতরে নিয়ে গিয়ে তাকে বসান। ডাক্তার এসে পরীক্ষা করেন এবং তারপরেই নাকি ম্যারাডোনাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে।

নাইজেরিয়া সমর্থকদের দিকে মধ্যমা প্রদর্শন

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে স্থিতিশীল আছে তার শারীরিক অবস্থা। হাসপাতালেই ডাক্তারদের তত্বাবধানে চলছে তার চিকিৎসা। কিন্তু হঠাৎ কী কারণে এতটা অসুস্থ হয়ে পড়লেন ম্যারাডোনা তা জানা যায়নি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here