আহত, রক্তাক্ত অবস্থায়ও গতকাল বীরের মতো দেশের জন্য লড়াই করেছেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ও তারকা ডিফেন্ডার জাভিয়ার মাসচেরানো। সতীর্থ মেসি, হিগুয়াইন, ডি মারিয়াদের উজ্জীবিত করতে তিনি যেন প্রাণপণ করেছিলেন। রক্তাক্ত অবস্থায়ও দেশের প্রতি তার কমিটমেন্ট দেখে তাই এখন ধন্য ধন্য করছে আর্জেন্টাইনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলো।

গতকাল বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেন্ট পিটার্সবার্গে খেলতে নেমে ম্যাচের শুরুতেই মেসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়েও গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে এই মাসচেরানোর ভুলেই পেনাল্টি পেয়ে যায় নাইজেরিয়া। আর নাইজেরিয়ার ভিক্টর মোসেস গোল দিয়ে দলকে সমতায় ফেরান।

এ সময় ক্যামেরায় যেন বারবার ধরা পরছিল মাসচেরানোর ভেজা চোখ। মনে মনে হয়ত ভাবছিলেন, যদি এই ভুলের কারণেই দল বাদ পড়ে যায়, তবে হয়ত নিজেকে আর কখনোই ক্ষমা করতেন পারবেন না তিনি।

তারপর সেই যে মাঝমাঠ থেকে রক্ষণভাগ- সব যেন একাই সামলেছেন তিনি বর্ম হয়ে। কী ট্যাকল, কী ইন্টারসেপ- সবই নিখুঁতভাবে করে যাচ্ছিলেন। দলকে গোল থেকে বাঁচাচ্ছেন। আবার গোলের জন্য মেসি-হিগুয়াইন-আগুয়েরোদের বল তৈরি করে দিচ্ছিলেন।

ম্যাচের ৬০ মিনিটের দিকে নাইজেরিয়ার খেলোয়াড়দের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মুখ কিছুটা থেঁতলে যায় মাসচেরানোর। ডান চোখের ওপর, কপালে বড় একটা অংশ কেটে যায়। গলগলিয়ে রক্ত চোখের পাশ বেয়ে। তবু খেলা থেকে একবিন্দু নজর সরাননি তিনি। কারণ দলের পরের রাউন্ডের টিকিট পেতে যে চাই আরও এক গোল!

রক্ত পড়া অবস্থাতেই চালিয়ে গেলেন খেলা। একজন সত্যিকারের যোদ্ধা তো কখনও মাঠে হেরে আসতে পারে না। আসেননি আর্জেন্টিনা দলের অঘোষিত এ দলপতিও। রক্ত মাখা মুখেই নাইজেরিয়ায় পাওয়ার ফুটবলকে মোকাবেলা করে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফিরলেন দ্য ট্যাকেল মাস্টার। আর্জেন্টিনার এই জয়ে সবার পরিশ্রমের ঘামের সঙ্গে মিশে রইলো মাসচেরানোর রক্তও।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here