ভারতীয় নাগরিকত্ব যাচাই করে তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় রেজিস্টার অব সিটেজেন। যা চূড়ান্ত হবে ৩০শে জুন। প্রক্রিয়া চলেছে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে। এতে আসামে হিন্দু-মুসলিম বাঙ্গালি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে আসাম ভারতীয় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে গত বছর দুই ধরে। লক্ষ্য, বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা, বিশেষ করে যাঁরা ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের পর এসেছে। ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন (এনআরসি) দিন দুয়েক আগে এর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকা থেকে বাদ গেছে প্রায় ৭০ লাখ বাংলাভাষী অধিবাসী।

এই ৭০ লাখের মধ্যে ২৫ লাখ বাঙ্গালি হিন্দু এবং বাকিটা বাঙ্গালি মুসলিম। এই এই প্রক্রিয়ার নিয়মবিধি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ব্যক্ত করেছে হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আসামের সংখ্যালঘু বাঙ্গালি সম্প্রদায়। তাদের অভিযোগ এনআরসি দরকার মতো তাদের নিয়মবিধি পরিবর্তন করেছে। এর ফলে মুসকিলে পড়বে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়, বলেছেন সর্ব ভারতীয় সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের জেনারেল সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম।

উনি বলেন, ‌’আমরা একটা জিনিস দেখছি, এনআরসি-এর জন্য যেসব জিনিস লাগে তার একটা হলো ২০০৩ সালের সিটিজেনশিপ রুল। আসামের সংশ্লষ্ট সব রাজনৈতিক, অ-রাজনৈতিক, সাহিত্য ও সাংস্কতিক তিক সংগঠনগুলি মিলিতভাবে একটা মডেল রুল তৈরি করে, যেটা পাশ হয় রাজ্য বিধানসভায়। অনুমোদন করে এনআরসি এবং সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু এখন দেখছি আসাম সরকার নানাভাবে এর ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে। যেমন ধরুন ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সাল থেকে ৩০ জুনের আগে সেইসব নিয়মে ক্রমাগত পরিবর্তন করা হচ্ছে। ‘

আসামে এনআরসি নিয়ে বেশ আতঙ্কে আছে বাঙ্গালিরা

নতুন করে জারি করা হয়েছে অনেক বিজ্ঞপ্তি। অন্যদিকে দেখুন, সুপ্রিম বলেছেন, এনআরসির তালিকায় ডি-ভোটার আসবে না। ডি-ভোটার মানে যাদের নাগরিকত্ব সন্দেহজনক এক কথায় বিদেশি। অথচ এনআরসির ডি-ভোটার তালিকায় তাদের পরবর্তী প্রজন্মকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কথা হচ্ছে, বিদেশি বলে যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে, সেটা প্রমাণিত হয়নি। তা যদি না হয়ে থাকে তাহলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে কেন? আসামে তথাকথিত সন্দেহভাজন বিদেশির সংখ্যা প্রায় ৯২ হাজার। এদের মধ্যে ৫৩ হাজারকে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগও দেওয়া হয়নি, মানে কোনো নোটিফিকেশন দেওয়া হয়নি। কাজেই তারা যে বিদেশি সেটা প্রমাণিত হয়নি।

এই আশঙ্কা কথা জানান শিলচরভিত্তিক হিন্দু লিগ্যাল সেলের ধর্মানন্দ দেব। ১৯৭৯ সালে আমরাই হয়েছিলাম প্রধান নিশানা, যখন আমাদের নাগরিকত্ব নিয়ে আঙুল তোলা হয়। তকমা দেওয়া হয় ডি-ভোটার অর্থাৎ ডাউটফুল ভোটার। প্রায় ৯০ শতাংশ ডি-ভোটার বাঙ্গালি হিন্দু। আসামে ২৮ শতাংশ অধিবাসী বাংলা ভাষাভাষি। বেশির ভাগটা থাকে বরাক উপত্যকার তিন জেলায়। মূল যে প্রশ্নটা উঠে আসছে, তাহলে কেন এই বিভাজন? কেন আলাদাভাবে বাংলাভাষীদের চিহ্নিতকরণ? এর উদ্দেশ্যটাই বা কী?

এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে গঠন করা হয়েছে নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটি (সিআরপিসিসিএ)। এনআরসির গূঢ় অভিসন্ধি তুলে ধরাই এই সংগঠনের লক্ষ্য। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের সঙ্গে আসামের ২৮ শতাংশ বাঙ্গালি পড়বে বিপাকে। এটা ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থি

রাজ্যের কংগ্রেস নেতা অরুনাভ ঘোষ মনে করেন, এতে আসামের বাঙ্গালিদের উদ্বেগ বাড়বে। বাঙ্গালি প্রেশার গ্রুপের সদস্য গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, আসামকে একটা গবেষণাগার করে তাতে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে এনআরসি। এরপর সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গে তা প্রয়োগ করা হবে। ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজনকে থামানো দরকার। তবে যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটা চলছে দেশের শীর্ষ আদালতের নজরদারিতে। তাই কেউ নাক গলাতে সাহস পাবে না।

এর বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে আসামের সবথেকে শক্তিশালী ছাত্র সংগঠন আসু ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরত পাঠাতে আন্দোলন শুরু করে। খবর ডয়চে ভেলের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here