রাশিয়ার তৃতীয় রাজধানী কাজান শহরে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামছে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা। নক আউট পর্বের এ লড়াইটির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এখন কাজান এরিনা স্টেডিয়ামটি। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ এরইমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ স্টেডিয়ামে। কাল এ স্টেডিয়াম থেকেই বিদায় নিতে হবে যে কোনো এক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলকে। দুই হেভিওয়েট দলের ফুটবল দ্বৈরথের আগে দেখে নেয়া যাক ঐতিহ্যবাহী এ স্টেডিয়ামে আদি-অন্ত।

রাশিয়ার ৬ষ্ঠ সর্বাধিক জনবহুল শহর কাজান। এ শহরে প্রায় ১১ লক্ষ ৪৩ হাজার মানুষ বসবাস করছে। ২০০৯ সালে কাজান শহরকে রাশিয়ার তৃতীয় রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পাশপাশি দেশটির ক্রীড়া রাজধানী হিসেবেও উপাধি দেয়া হয়। ভোলগা ও কাজানকা নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত কাজান শহরটিকে পর্যটকদের শহর বলা হয়। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ পর্যটক আগমন করে এ শহরে। বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ২০১০ সালে কাজান এরিনা নামক স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই স্টেডিয়ামটির নির্মান কাজ সমাপ্ত করা হয়। স্টেডিয়ামটি নির্মানে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। স্টেডিয়ামের নকশায় প্রাধাণ্য পেয়েছে স্থানীয় ঐতিহ্য ও স্থাপনাসমূহ।

উদ্বোধন হওয়ার পর এই স্টেডিয়ামে ইউনিভার্সাইড ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর দুই বছর পর এখানে আয়োজন করা হয় বিশ্ব একুয়াটিক্স চ্যাম্পিয়নশীপ। আর ২০১৭ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপের চারটি ম্যাচও এখানে আয়োজন করা হয়েছিল। তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ ছাড়াও এখানে আয়োজন করা হয় একটি সেমিফাইনাল। চলতি বিশ্বকাপের ৬টি ম্যাচ এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে চারটি ম্যাচ ম্যাচ শেষ হয়েছে। কাল আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স দ্বৈরথের পর কোয়ার্টার ফাইনালেরও সাক্ষী হতে চলেছে কাজান এরিনা।

স্টেডিয়ামটির আলো বাতাস আর্জেন্টিনার কাছে অপরিচিত হলেও ফ্রান্স কিন্তু এখানে আগেই খেলে গেছে। তাও আবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচটিই খেলার স্বাদ পেয়েছে ৯৮’র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। ঐ ম্যাচে জয় ২-১ গোলের জয় পায় ফ্রান্স। তাই ভেন্যুর সুবিধা দিয়েও আর্জেন্টিনার চেয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে ফ্রান্স।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here