হারলে বিদায়। জিতলে মিলবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ফুটবল মহাযজ্ঞের এ কঠিন বাস্তবতা মানছেন আর্জেন্টাইন কোচ জর্জ সাম্পাওলি ও ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম। দুজনকেই আজ বড় পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করেছে ফুটবল দুনিয়া। কাজানে আজ রাত ৮টায় মুখোমুখি আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স।

গ্রুপ পর্বের অভিজ্ঞতাই বলছে এবারের বিশ্বকাপ মিশনটা মোটেই সহজ নয়। স্বাভাবিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ১৯৯৮ চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে শেষ আটে উঠা আকাশী নীল শিবিরের জন্য চ্যালেঞ্জিংই। কিন্তু তারপরও ধৈর্যের পরীক্ষায় অবিচল থেকে অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে দৃঢ় প্রত্যয়ী আর্জেন্টাইন কোচ জর্জ সাম্পাওলি, ‘অসাধারণ ফুটবলাররে নিয়ে গড়ে উঠা একটি দলের (ফ্রান্স) বিপক্ষেই মাঠে আমরা লড়তে যাচ্ছি। বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে তারাও অন্যতম হট ফেভারিট। খুব কঠিন এই ম্যাচে লক্ষ্যে অটুট থেকে নিজেরে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে হবে আমাদের।’

প্রথম দুই ম্যাচে লিওনেল মেসি ছিলেন নিষ্প্রভ হয়ে। শুধু ভিনগ্রহের ফুটবলার মেসি কেন? পুরো লাতিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনাই যে ঝিমিয়ে পড়েছিল। যে কারণে উদ্বোধনী ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট কেড়ে নেয় আইসল্যান্ড। আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তো ৩-০ গোলে ধরাশায়ী হয়ে লজ্জায় ডুবে যায় আলবিসেলেস্তে শিবির। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খোলস ভেঙে বেরিয়ে দ্যুতি ছড়িয়ে দেন প্রাণভোমরা মেসি।

তাতেই নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শেষ পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। তাই দলের মূল কান্ডারি লিওনেল মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টাইনবাসীর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নটা আরো উজ্জ্বল হয়েছে। ভক্ত সমর্থকরে বিশ্বাস, বার্সা সুপারস্টারই দেশে ফিরিয়ে নিবেন স্বপ্নের সোনালী বিশ্বমুকুট। দেশবাসীর সঙ্গে মেগাস্টারের প্রতি আস্থা রাখছেন ফুটবল গুরু সাম্পাওলিও, ‘লিও-র আচরণে আমি গর্বিত। সে জানে সব সব কাজের মধ্যেই আমি অনুরাগের সবটুকু ঢেলে দিই। তার চেয়ে বড় কথা আর্জেন্টিনা জন্য গুরুপূর্ণ কিছু অর্জন করার স্বপ্ন দেখেই আমরা রাশিয়ায় পা রেখেছি।’

গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের পারফরম্যান্সও খুব বেশি যে ভালো ছিল তা কিন্তু নয়। ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেও ফরাসিরা নিজেদের মানের খেলা দিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মন ভরাতে পারেনি। ফরাসি লের মূল ভরসা অ্যান্তোনিও গ্রিজম্যান এখনো নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে। নক-আউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচকে কঠিন পরীক্ষা হিসেবেই খেছেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশামস, ‘গ্রুপপর্বটা সবার জন্যই কঠিন ছিল। আক্রমণাত্মক ফুটবলের খ্যাতি নিয়েও স্পেন বা জার্মানির মতো দল কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমখি হয়েছে। শেষ ষোল পর্বে কী আরো বড় কোনো অঘটনই ঘটবে? আমি ঠিক জানি না। আমার প্রত্যাশা এমনটাই।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here