কোটা সংস্কার আন্দোনের নেতা ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে মিরপুর ১৪ নম্বর এলাকা থেকে রাশেদকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শাহাবাগ থানায় এক ছাত্রলীগ নেতার তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক আল-নাহিয়ান খান জয় বাদী হয়ে শাহাবাগ থানায় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহাবাগ থানার ওসি আবুল হাসান।

মামলার বাদী আল-নাহিয়ান খান বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে রাশেদ ফেসবুক লাইভে এসে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আসছিল। এ ঘটনায় আমি আজ তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করি।’

অন্যদিকে একই সময় কোটা আন্দোলনের নেতা মাহফুজ খান ও সুমন কবীরকেও ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাশেদের বড় বোন রূপা খান। তবে মাহফুজ ও সুমনকে গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু জানায়নি পুলিশ।

রাশেদের আত্মীয় ও বন্ধুরা অভিযোগ করেন, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি, রাশেদ ও মাহফুজ ভাষানটেকের মজুমদার মোড়ে রাশেদের আত্মীয়ের বাসার সামনে ছিলেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরে ও সাদাপোশাকে কয়েকজন তাদের সামনে আসেন এবং তাঁদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে থাকেন। পুলিশের সঙ্গে ওই এলাকার কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাও ছিলেন। একপর্যায়ে তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে রাশেদ পাশের বাসার ছাদে আশ্রয় নেন। এ সময় সেখান থেকে তাকে খুঁজে বের করে আটক করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রাশেদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ভাষানটেক থানার ওসি সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যম বিষয়টি আমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করছে, কিন্তু আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

এর আগে শনিবার বেলা ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা সংস্কার নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা করেছে। এতে কোটা আন্দোলনের নেতা নুর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

পরে এই হামলার প্রতিবাদে আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন এবং অবরোধের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here