চলচ্চিত্রে অসামাণ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দশবার সেরা চিত্রগ্রাহক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেছেন মাহফুজুর রহমান খান। এর মধ্যে পাঁচবার ট্রফি আর সনদ পেয়েছিলেন, শেষ পাঁচবার পেয়েছেন সোনার মেডেল। কিন্তু সম্প্রতি তার সোনার মেডেলের তিনটিতে মরিচা ধরেছে। যা নিয়ে এখন বিস্মিত গুণী এই চিত্রগ্রাহক। একই অবস্থা প্রয়াত চিত্র পরিচালক শেখ নিয়ামত আলীর মেডেলেরও।

১৯৮৪ সালে ‘অভিযান’ ছবির জন্য প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন মাহফুজুর রহমান খান। এরপর আরও নয়বার এই সম্মাননা অর্জন করেন গুণী এই চিত্রগ্রাহক। এর বাইরে অন্য যেসব ছবির জন্য মাহফুজুর রহমান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন, সেসব ছবি হচ্ছে ‘সহযাত্রী’ (১৯৮৭), ‘পোকামাকড়ের ঘরবসতি’ (১৯৯৬), ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ (১৯৯৯), ‘দুই দুয়ারি’ (২০০০), ‘হাজার বছর ধরে’ (২০০৫), ‘আমার আছে জল’ (২০০৮), ‘বৃত্তের বাইরে’ (২০০৯), ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ (২০১২) ও ‘পদ্মপাতার জল’ (২০১৫)।

গুণী এই চিত্রগ্রাহক বলেন, ‘আমি পাঁচটি সোনার মেডেল পেয়েছি। কদিন আগে দেখলাম, আমার আলমারিতে রাখা মেডেলগুলোতে মরিচা পড়েছে। এই দৃশ্য দেখার পর শুধু কষ্টই পেয়েছি। আমার একটা কথাই মনে হয়েছে, কীভাবে এমন একটা কাজ করতে পারল! এটা আমার দেশের, সরকারের জন্য লজ্জা।’

অন্যদিকে সূর্য দীঘল বাড়ি’ ও ‘দহন’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন পরিচালক শেখ নিয়ামত আলী। এই পরিচালক ১৯৯৫ সালে ‘অন্য জীবন’ ছবি নির্মাণ করে একাই তিনটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ‘অন্য জীবন’ ছবির সময় বিভিন্ন পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত হয় সোনার মেডেল। প্রখ্যাত এই পরিচালক দেড় দশক আগে মারা যান। গুণী এই পরিচালকের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ট্রফি ও মেডেল দেখভাল করছেন তার মেয়ে শর্বরী ফাহমিদা। তিনি বলেন, ‘অনেকে হয়তো মনে করতে পারেন, আমরা পুরস্কারগুলোর পরিচর্যা করি না। এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে রাখার পরও কীভাবে সোনার মেডেলে মরিচা পড়ে! এর বেশি আর কিছু বলার নাই।’

জানা গেছে, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণের বিষয়টি সরাসরি দেখাশোনা করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগ। সোনার মেডেলে মরিচা নিয়ে সেখানকার ডেপুটি সেক্রেটারি সাইফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এ মন্ত্রণালয়ে নতুন এসেছি। মাত্র ১ মাস হবে। তাই পুরনো বিষয়টি সম্পর্কে আমি ভালো বলতে পারব না। তবে কিছুদিন হলো আমাদের সচিব মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন পুরস্কারপ্রাপ্তদের সঙ্গে নিয়ে সোনার দোকানে গিয়ে মেডেল তৈরি করতে। পুরনো পুরস্কারের বিষয় সম্পর্কে আমি জানি না।’

এদিকে চলচ্চিত্র বিভাগের অ্যাডমিন ও মন্ত্রণালয়ের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আজহারুল হক বিষয়টি শোনার পর দ্রুত পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘যদি এটি ঘটে থাকে, তাহলে খুবই দুঃখজনক। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে। মেডেল বা ক্রেস্ট বানাতে ঠিকাদার কোম্পানিকে দরপত্র দেওয়া হয়। এখন কোন কোন সালের মেডেলে মরিচা পড়েছে তা আগে বের করতে হবে। কারা মেডেল তৈরি করেছে এটা তখন বের করা যাবে। আমরা দ্রুত মাহফুজুর রহমান সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here