রাশিয়া বিশ্বকাপে এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে শেষ ষোলোতে নাম লিখিয়েছে জাপান। নক আউট পর্বের অগ্নি পরীক্ষায় আজ ব্লু সামুরাইদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের নতুন শক্তি বেলজিয়াম। রাশিয়ার রোস্তভ এরিনায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১২টায়।

বেশ নাটকীয় ভাবেই রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা করে নিয়েছে জাপান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পোল্যান্ডের মুখোমুখি হয় জাপান। অন্য ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে সেনেগাল। দুদলই হারলো শেষ ম্যাচে গ্রুপপর্ব শেষ করে সমান চার পয়েন্ট এবং সমান গোল ব্যবধান নিয়ে। কিন্তু হলুদ কার্ড কম দেখায় ‘ফেয়ার প্লে’র হিসাবে সেনেগালের চেয়ে এগিয়ে থাকায় ভাগ্য খুলে যায় জাপানের। তিন ম্যাচে জাপানের চার হলুদ কার্ডের বিপরীতে সেনেগাল দেখেছি ছয়টি হলুদ কার্ড। শেষ পর্যন্ত এটাই কাল হয় আফ্রিকার লটির জন্য। ফলে সেনেগালে বিদায়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আফ্রিকার কোনো প্রতিনিধি থাকল না। আর এশিয়া মশাল জ্বালিয়ে রাখল জাপান।

এবার তাদের সমানে ‘জি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন বেলজিয়াম। ফিফা বিশ্বকাপে ১১বার অংশ নিয়ে ৩বার গ্রুপ পর্ব পার করেছে জাপান। এবার লক্ষ্য তা ছাড়িয়ে যাবার। দলটির বিপক্ষ জাপানের অতীত রেকর্ড ভালো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৫বার মুখোমুখি হয়ে দু’দল। জাপানের দুই জয়ের বিপরীতে একটিতে জিতেছে বেলজিয়াম। বাকি দুই ম্যাচ ড্র হেয়েছে। আর বিশ্বকাপে একবার মুখোমুখি হয় হয় তারা। ২০০২ বিশ্বকাপে নিজেরে মাঠে বেলজিয়ামের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে জাপান।

লের সেরা স্ট্রাইকার শিনজি ওকাজাকির ইনজুরি ভাবাচ্ছে জাপান কোচ আকিরা নিশিনোকে। এছাড়া দলের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারের কার্ড সমস্যা রয়েছে। এ ম্যাচে তারা আরো একটি হলুদ কার্ড দেখলে, পরের ম্যাচে খেলতে পারবে না। গ্রুপ পর্বে খেলা ৪-২-৩-১ ফরমেশন নিয়ে খেলবে জাপান।

অন্যদিকে, দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে বেলজিয়ামে সোনালি প্রজন্ম। ইউরোপ সবার আগে রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট কাটে বেলজিয়াম। এরপর বিশ্বকাপেও ছুটছে দুর্দান্ত গতিতে। গ্রুপ পর্বের সবগুলো ম্যাচে জয় পেয়েছে তারা। পুরো নয় পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিনে জায়গা করে নিয়েছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বারে থাকা দলটি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে সর্বোচ্চ ৯ গোল করেছে হ্যাজার্ড-লুকাকুরা। ৪টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলাতার তালিকার দ্বিতীয়তে আছেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে চতুর্থ হওয়াই বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য। এরপর সাতটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে মাত্র একবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে তারা। দুই বিশ্বকাপ বিরতি দিয়ে ২০১৪ সালে বেলজিয়ামের ফেরাটা ছিল আশা জাগানিয়া। দেশটির ইতিহাসে সেরা দল নিয়ে ব্রাজিলে বিশ্বকাপে খেলতে যায় তারা। সোনালি প্রজন্মের ওপর ভর দিয়ে বিশ^কাপের ট্রফিরও স্বপ্ন দেখেছিল বেলজিয়াম। কিন্তু সু›র সমাপ্তি করতে পারেনি তারা। বিশ^কাপের সবচেযে ভারসম্যপূর্ণ দলটার স্বপ্নযাত্রা থেকে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে।

এরপর অবশ্য থেকে যায়নি বেলজিয়ামের ফুটবল। ওই ভিতটার ওপর দাঁড়িয়ে অনেক দূর ঠিকই এগিয়েছে তারা। ২০১৬ সালে কোম্পানি-ডি ব্রুইনে-কোর্তয়োদের হাত ধরে প্রথমবারের মতো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠে বেলজিয়াম। লম্বা সময় ধরে তা ধরে রাখে তারা। এতে প্রমাণ হয় বেলজিয়ামের এই দলটি অতীতের যে কোনো দলের চেয়ে অধিক শক্তিশালী এবং ভয়ঙ্কর। আর ইউরোপের মাটিতে এবারের বিশ্বকাপ হওয়ায় সম্ভাব্য শিরোপাজয়ীরে তালিকায় রাখা হয়েছে বেলজিয়ামকে।

দলে ইনজুরি সমস্যা না থাকায় জাপানের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে সেরা একাশই পাচ্ছেন মার্টিনেজ। এ ম্যাচে ৩-৪-২-১ এমন আক্রমণাত্বক ফরমেশনে একাদশ সাজাবেন বেলজিয়ামের স্প্যানিশ কোচ। লক্ষ্য ম্যাচের শুরু থেকেই জাপানের উপর চাপ সৃষ্টি করা।

এ ম্যাচ জিতলে ইতিহাস সৃষ্টি হবে জাপানের। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে এশিয়ার একমাত্র মশাল বাহক। অন্যদিকে বেলজিয়ামের চোখ শিরোপায়। শেষ হাসি কার, জাপান না বেলজিয়ামের? চোখ রাখুন রোস্তভ অ্যারেনায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here