আজ রাত আটটায় নক আউট পর্বে মাঠে নামছে নেইমারের ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ মেক্সিকো। এই ম্যাচেও কি খসে পড়বে কোন নক্ষত্র? মেসি-রোনালদো-ইনিয়েস্তার পর কে এবার।

প্রশ্নটা অনুমিতভাবে ছুটে যাচ্ছে নেইমারদের দিকে। মেসি-রোনালদোর পর হালের আলোচিত তারকা ফুটবলার তিনিই। তবে প্রতিপক্ষ মেক্সিকো বলেই শঙ্কাটা কম। বরং উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাস ফুটছে তিতের ব্রাজিল। পরিসংখ্যান আর ইতিহাস ব্রাজিলের কথাই বলছে। যেখানে মেক্সিকো পিছিয়ে যোজন যোজন মাইল।

তবে রাশিয়া বিশ্বকাপে অনেক কিছুই ঘটছে। আন্ডারডগরাও দেখাচ্ছে চমক। অনেক ফেবারিটদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। কোন ম্যাচের আগে ভবিষ্যতবাণী করা তাই বোকামির শামিল। ধারে ভারে আজকের ম্যাচে মেক্সিকোর চেয়ে অনেক এগিয়ে ব্রাজিল। কিন্তু মেক্সিকোর অধিনায়ক আন্দ্রেস গারদাদো যেমন আগাম বাণ ছুড়ছেন। তার চোখে ‘কুইন্তো পারটিদো’, মানে পঞ্চম ম্যাচ। বিশ্বকাপে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে মেক্সিকো। পঞ্চক মিশনে গারদাদো ইতিহাস গড়তে চান। তার মতে, এই ম্যাচটি জিততে পারলে তা হবে ইতিহাসের স্মরণীয় অধ্যায়।

কিন্তু সেই কাজটি করতে অসাধ্য সাধন করতে হবে মেক্সিকোর। পরিসংখ্যান রীতিমতো চোখ রাঙাচ্ছে। বিশ্বকাপে চারবারের মোকাবেলায় ব্রাজিলের জয় তিনটিতে, ড্র একটি। মানে বিশ্বকাপে মেক্সিকোর জয় নেই। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের তিন ম্যাচে ব্রাজিল গোল করেছিল ১১টি, মেক্সিকোর স্ট্রাইকাররা একবারও খুঁজে পায়নি ব্রাজিলের জাল। মেক্সিকোর জন্য ব্রাজিল নামক পাহাড় টপকানো তাই বড্ড মুশকিল। তবে সব ধরনের প্রতিযোগিতা আমলে আনলে মেক্সিকোর জয় ১০টিতে। ৪০ বারের মোকাবেলায় ব্রাজিলের জয় সেখানে ২৩টি। ড্র সাত ম্যাচে। র‌্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে থাকা ব্রাজিল তাই বড় পরীক্ষার নাম ১৫ নম্বরে থাকা মেক্সিকোর জন্য।

মেক্সিকোর শুরুটা জার্মানিকে হারিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে। যদিও শেষ ম্যাচে সুইডেনের কাছে বাজে হারটা ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছে মেক্সিকোর। উল্টো রূপ ব্রাজিলের। শুরুটা বাজে। ধীরে ধীরে তাল-লয় বাজছে সাম্বার সুরে। ব্রাজিলকে ক্রমশ মনে হচ্ছে দুর্দমনীয়। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্রয়ের পর কোস্টারিকার সঙ্গে জয়। শেষ ম্যাচে সার্বিয়ার সঙ্গে দেখা মিলল চিরায়ত ছন্দ, জোগো বনিতার। ২-০ গোলের সাবলিল জয়।

নক আউট পর্বে ব্রাজিল মারকুটে অবস্থানে রয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালে চোখ সেলেকাওদের। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি আসরে ন্যুনতম কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে ব্রাজিল (এর মধ্যে দুটি শিরোপা, একবার রানার্স আপ)। মানে নক আউট পর্ব থেকে বিায়ের স্মৃতি বলতে গেলে ভুলেই গেছে পেলের উত্তরসূরীরা। অপর দিকে এই নক আউট পর্ব কিছুটা গেরোর মতো কাজ করছে মেক্সিকোর। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর প্রতিটি আসরে নক আউট পর্ব খেলেছে মেক্সিকো। মজার কিংবা দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এর মধ্যে একবারও নক আউট পর্বে জয় পায়নি তিন রঙের সমাহারের (দি ট্রাইকালার) টিম মেক্সিকান। এবার নক আউট পর্বের সাত নম্বর অভিযান। ভাগ্য ফিরবে এল ত্রিদের?

ব্রাজিলের সামনে ছোট্ট অথচ কঠিন সমীকরণ। ২০০৬ এর পর বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচ জেতা হয়নি দলটির। মেক্সিকোকে হারাতে পারলে সেটা হবে পূর্ণ। বাড়বে শিরোপা জয়ের স্বপ্নও। তবে হার কী জিনিস, সেটাও দূর অতীতের স্মৃতি ব্রাজিলের জন্য। টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত। এর মধ্যে জয় ১০টি, ড্র চারটি। শেষ হার গত বছরের জুনে, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা।

মেক্সিকোর জন্য আহাজারিটা বেশি। বিশেষ করে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে মেক্সিকো সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (৫৬) খেলা দল যারা শিরোপা জেতেনি। এরে দৌড় সর্বোচ্চ কোয়ার্টার ফাইনাল। ফাইনাল দূরে থাক, সেমিফাইনালই এখনও অস্পর্শ। এই মেক্সিকোর বিরুদ্ধে আজ ব্রাজিলের জন্য তুরুপের তাস হতে পারেন ফিলিপ কৌতিনহো। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের পাঁচ গোলের মধ্যে তিনটিতে তার অবান। দুটি করেছেন, একটি করিয়েছেন। ব্রাজিলের জার্সিতে কুতিনহোর প্রথম গোল ২০১৫ সালের জুনে। প্রতিপক্ষ ছিল এই মেক্সিকোই। ব্রাজিলও জিতেছিল ২-০ গোলে।

আজ হলুদ কার্ডের কারণে মেক্সিকো পাবে না সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হেক্টর মোরেনোকে। যা বড় ধাক্কা লটির জন্য। তবে আছেন হ্যাভিয়ের হার্নান্দেজ। যিনি ব্রাজিলের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারেন। যদিও গত ২৭০ মিনিটে হার্নান্দেজ সুপার ফ্লপ। এই সময়ে একটি মাত্র শট নিতে পেরেছেন লক্ষ্যে। মজার বিষয় হলো, সেই শটেই দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে গোল পেয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্যে হার্নান্দেজের শট তাই ভয়ঙ্কর।

সামারায় আজ রাত ৮টায় বাজবে মেক্সিকো-ব্রাজিল যুদ্ধের দামামা। মেক্সিকো কি পারবে নক আউট পর্বের জুজু এড়াতে, নাকি সাম্বা উৎসবে শেষ আটের টিকিট মিলবে ব্রাজিলের? রেজাল্ট জানতে চোখ রাখতে হবে কসমস অ্যারেনায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here