চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার প্রকৃত বীর কে, এমন প্রশ্ন যদি এখন দেশটির কোনো ভক্তকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে তারা উত্তর দেবেন গোলরক্ষক দানিজেল সুবাসিচ। গতকাল কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার মিশনে টাইব্রেকারে ডেনমার্কের তিন তিনটি শট রুখে দিয়েই ক্রোয়েশিয়ার বীরে পরিণত হলেন সুবাসিচ।

রোববার রাশিয়া বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও ডেনমার্ক। নির্ধাতির সময় ও অতিরিক্ত সময়েও ফল না আসা ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে সবাই দেখল রোমাঞ্চকর এক লড়াই। দুটি শট ফিরিয়ে দিলেন ডেনমার্ক গোলরক্ষক ক্যাসপার স্মেইকেল। তিনটি ফেরালেন ক্রোয়েশিয়ার দানিজেল সুবাসিচ। তাতে টানটান উত্তেজনার এক টাইব্রেকার দেখল সবাই। যেখানে শেষ পর্যন্ত জয় ক্রোয়েশিয়ার। ডেনমার্ককে ৩(১)-২(১) গোলে হারিয়ে শেষ আটে পৌঁছে গেল ক্রোয়েটরা।

নিজনি নভগোরোদে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা শুরু হওয়া ম্যাচের শুরু আর শেষটা যেন এক বিন্দুতে মিলল। কিক অফের বাঁশি বাজতেই ম্যাচের ৫৭ সেকেন্ডের গোল পেয়ে যায় ডেনমার্ক। রাশিয়া বিশ্বকাপে যা সবচেয়ে দ্রুততম গোল। ম্যাথিয়াস জোরগেনসেন সেই গোলটি করেন। তবে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ সমতা আনে চতুর্থ মিনিটেই। মারিও মান্দজুকিচ গোল করেন ক্রোয়েটদের পক্ষে। বিশ্বকাপে চার মিনিটের মধ্যে দুই দলেরই গোল করার ঘটনা ঘটল এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। ২০১৪ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও নাইজেরিয়া ম্যাচে যা প্রথম ঘটেছিল।

অমন শুরুর পর এক ঝাঁঝালো উত্তাপের ম্যাচ আশা করছিল সবাই। কিন্তু নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর অতটা উত্তাপ ছড়াল না ম্যাচটি। বরং ঝিমুনি আসার মতো এক ম্যাচই হলো যেন। পরে তা গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে। যেখানেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হতে পারত। ১১৬ মিনিটে পেনাল্টি পায় ক্রোয়েশিয়া। লুকা মড্রিচ ডেনমার্ক রক্ষণকে পরাস্ত করে গোলমুখে শট নিবেন এমন মুহূর্তে তাকে ফাউল করা হয়। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মড্রিচ। তার ডানদিকে নেওয়া শটটি দারুণভাবে রুখে দেন ডেনমার্কের গোলরক্ষক স্মেইকেল।

পেনাল্টিতে এমন সুযোগ হাত ছাড়া হওয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার জন্য দুর্ভাগ্যই নেমে আসতে পারতো। টাইব্রেকার তো সব সময়ই ভাগ্যের পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় হতাশায় পুড়লে লুকা মড্রিচ কি নিজেকে ক্ষমা করতে পারতেন? কিন্তু মড্রিচের দুঃখ ভুলিয়ে দিলেন তাদের গোলরক্ষক।

আসলে এদিন টাইব্রেকারে দুই গোলরক্ষক এমনই পারফরম্যান্স করলেন যে টাইব্রেকারকে ভাগ্য পরীক্ষা বলে মনে হলো না কখনোই। এবং দিন শেষে সত্যিই সেখানে পার্থক্য গড়লেন এক রক্তমাংসে গড়া মানব। যার নাম দানিজেল সুবাসিচ। আপাতত ক্রোয়েটরা যাকে বীরের মর্যাদা দিতেই পারে।
টাইব্রেকারে প্রথম শট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয় দুই দলই। ডেনমার্কের এরিকসেনের নেওয়া প্রথম শটটি রুখে দেন সুবাসিচ। এরপর ক্রোয়েশিয়ার বাদেলেইয়ের শট ফিরিয়ে দেন ডেনমার্ক গোলরক্ষক স্মেইকেল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শটে গোল আদায় করে দুই দলই। তবে চতুর্থ শটে ব্যর্থ দুই দল। ডেনমার্কের হয়ে চতুর্থ শটটি নেন ল্যাসে শুন। যা রুখে দেন সুবাসিচ। ক্রোয়েশিয়ার জোসিপ পিভারিকের শটও রুখে দেন ডেনমার্কের গোলরক্ষক স্মেইকেল। ডেনমার্কের নিকোলাই জর্গেনসনের নেওয়া পঞ্চম শটটাও ক্রোয়েট গোলরক্ষক সুবাসিচ ঠেকিয়ে দিলে পঞ্চম শটটা রুখতেই হলো স্মেইকেলকে। কিন্তু ডেনমার্ক গোলরক্ষক পারেন নি শেষটা ফেরাতে।

১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালে খেলা ক্রোয়েশিয়া শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়েছিল। শেষ আট নিশ্চিত করে রাশিয়াতেও এবার তাদের মিশন সেমি ফাইনাল। আর সেই পথে তাদের সামনে বাঁধা স্বাগতিক রাশিয়া। যাবা আবার ২০১০ আসরের চ্যাম্পিয়নদের এদিন দিনের প্রথম ম্যাচে হারিয়েছে টাইব্রেকারে। তবে শেষ আটে ক্রোয়েশিয়া ও রাশিয়া ম্যাচটি কতোটা উত্তেজনার হবে তা যে এদিনটিই বলে দিচ্ছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here