আসন্ন পবিত্র হজ উপলক্ষে এবারই প্রথম ঢাকা থেকে সরাসরি সৌদি আরবের মদিনায় ফ্লাইট পরিচালনা করবে বাংলাদেশ বিমান। তবে প্রতিবার নির্ধারিত ফ্লাইটে যাত্রী না পাওয়ায় এ খাতে অনেক লোকসান গুণতে হয় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সকে। তাই এবার এ বিষয়ে কঠোর হচ্ছে তারা। এ বছর কেউ নির্ধারিত ফ্লাইটে হজে না গেলে ওই যাত্রীকে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিমান সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। যার অর্ধেক যাত্রীই অর্থাৎ ৬৩ হাজার ৫৯৯ জনকে বহন করবে বিমান। বাকি যাত্রী বহন করবে সৌদিয়া এয়ারলাইন্স।

এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে। আগামী ১৪ জুলাই থেকে ফ্লাইট শুরু হবে। বিমান এবার ১৫৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফিরতি ফ্লাইট থাকবে ১৪৩টি।

বরাবরই হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) অভিযোগ থাকে, যাত্রী যখন কম থাকে, তখন বিমানের ফ্লাইট বেশি হয়। আবার তাদের যাত্রী যখন বেশি থাকে, তখন বিমানের ফ্লাইট কম থাকে।

এ বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, কবে, কখন কোন হজ ফ্লাইট যাবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে দুই মাস আগে থেকেই শিডিউল বা স্লট ঠিক করে দেয় সৌদি আরব সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। কারণ, সারা বিশ্বের লাখ লাখ মুসলমান সেখানে হজ করতে যান।

বিমান কর্তৃপক্ষের দাবি, একইভাবে তাদের আগে থেকে শিডিউল ঠিক করে দিয়েছিল, সেই শিডিউল প্রতিটি হজ এজেন্সির কাছে পৌঁছে দেয়াও হয়েছিল। যাতে করে তারা বিমানের শিডিউল হিসেবে যাত্রীদের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে।

এদিকে, প্রতিবার হজের সময় যাত্রীরা ফ্লাইট মিস করেন, যার কারণে আসন ফাঁকা রেখেই ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয়। এতে করে বিমানের ক্যাপাসিটি লস হয় এবং লোকসান গুণতে হয়। অনেক সময় আবার ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। তাই বিমান আগেভাগেই এবার টিকেট কাটার ব্যবস্থা করেছে। ইতোমধ্যে ১ জুলাই পর্যন্ত ৬০ শতাংশ টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। তারা আশা করছেন, ১৪ জুলাই ফ্লাইট শুরুর আগেই সমস্ত টিকেট বিক্রি হয়ে যাবে।

এছাড়া কোনো যাত্রী যদি নির্ধারিত ফ্লাইট পরিবর্তন করতে চান, সেক্ষেত্রে তাদের একশ’ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে। এমনকি কেউ যদি টিকেট বাতিল করতে চান, তাকেও দুইশ’ ডলার জরিমানা দিতে হবে।

আগামী ১৪ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মোট ১৫৫টি ফ্লাইট সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনায় যাবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটগুলো হবে। এর মধ্যে সিলেট থেকে জেদ্দা সরাসরি ৩টি এবং চট্টগ্রাম থেকে ৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দা ৬টি এবং চট্টগ্রাম থেকে মদিনায় ৩টি ফ্লাইট থাকবে। আর বাকি ১৪৩টি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করা হবে।এর মধ্যে এবারই প্রথম ঢাকা থেকে মদিনায় মোট ৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আর ১৩৮টি ফ্লাইট ঢাকা থেকে জেদ্দায় যাবে। ২৫ আগস্ট থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হবে ১৪৩টি ফিরতি ফ্লাইট। বিপুল সংখ্যক এই যাত্রী বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইয়ার নিজস্ব ফ্লাইটে বহন করবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here