রাশিয়া বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় সেন্ট পিটার্সবার্গে শুরু হবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইটি। সুইডিশ বনাম সুইসদের লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে কারা?

শক্তির বিচারে দুই দলই সমান। কেউ কারো চেয়ে খুব একটা এগিয়ে নেই। দুই দলের দ্বৈরথে কাউকেই ফেবারিট হিসেবে ধরা যাচ্ছে না। তবে গ্রুপ পর্বে দারুন চমক দেখিয়েই শেষ ষোল’তে ঠাঁই করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

ব্রাজিলকে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা সুইসরা পরের ম্যাচেই সার্বিয়াকে ২-১ গোলে পরাস্ত করে। আর শেষ ম্যাচে শক্তিশালী কোস্টারিকার সাথে ২-২ গোলে ড্র করে ৫ পয়েন্ট ঝুলিতে নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে যায়। ইউরোপ থেকে বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটির বিশ্বকাপে বড় প্রাপ্তি কোয়ার্টার ফাইনাল। সেমি ফাইনালে নাম লেখানোর সৌভাগ্য হয়নি তাদের। তবে এবার লক্ষ্য অতীত রেকর্ড পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া। কোচ পিটকোভিচ খেলার ধরনেও এনেছে পরিবর্তন। যার প্রথম সফলতা গ্রুপ পর্বে দেখা গেছে। অতীতের চেয়ে বেশী আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিচ্ছে সুইজারল্যান্ড। দল হিসেবেও যে আগের চেয়ে সুইসরা অনেক পরিণত সেটাও বলে দিলেন কোচ। সুইজারল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ক্রিওকো সফোরোও বেশ আশাবাী বর্তমান দলটি নিয়ে।

অতীতে সুইসদের দুর্বলতা প্রমাণ হয়েছে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার সময়। কিন্তু চলতি আসরে ব্রাজিল ও কোস্টারিকাকে রুখে দিয়ে নিজেরে শক্তির জানান দিয়েছে। বর্তমান দলটিতে তারকারও কোন কমতি নেই। গ্রানিত জাকা, ফ্যাবিয়ান ফেরি, হ্যারিস সেফেরোভিক, ব্রিল এমবোলো, ভ্যালন বেহরামি, স্টিফেন লিচেস্টেইনার, রিকার্ডো রদ্রিগেজরা রয়েছেন সুইস শিবিরে। তাই আক্রমন ও রক্ষণভাগ নিয়ে কোন ভাবনা নেই কোচ পিটকোভিচের।

অন্যদিকে, ‘এফ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক আউট পর্বে উঠে আসা সুইডেনের বিশ্বকাপ ইতিহাস সুইজারল্যান্ডের চেয়ে কিছুটা হলেও সমৃদ্ধ। ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের আয়োজন করে ফাইনাল খেলেছিল তারা। কিন্তু শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে পেলের ব্রাজিলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শিরোপাটা অধরাই থেকে যায় সুইডিশদের। চলতি আসরে তারা এসেছে ইতালির মতো দলকে পেছনে ফেলে। তিনবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলা দলটিকে নিয়ে তাই কোচ জেন এন্ডারসনের প্রত্যাশার কোন কমতি নেই। তরুণ এবং অভিজ্ঞ ফুটবলার নিয়ে গড়া দলটিকে এবার আরো দূরে খেতে চান তিনি। সেবাস্তিয়ান লারসন, জিমি ডারমাজ, জন গুইডেত্তি, অস্কার হেলজমার্ক, ভিক্টর ক্লেসন, ভিক্টর লিনডেলফরা চাইলেই যে কোন ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন বলে মনে করেন কোচ এন্ডারসন। দলের আক্রমনভাগের উপর দারুন আত্মবিশ্বাস তার। রক্ষণভাগ নিয়েও টেনশন নেই তার। ১১ বার বিশ্বকাপে অংশ নেয়া দলটিকে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখাতে হলে সুইজারল্যান্ডকে পরাস্ত করতে হবে।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সুইডেন (২৪) সুইজারল্যান্ডের (৬) চেয়ে ১৮ ধাপ পিছিয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই দুই দলের প্রথম সাক্ষাৎ হবে। ঐতিহাসিক এ লড়াইয়ে জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে দু’লই। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুই দল পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছিল। এরমধ্যে তিনবারই জয় আছে সুইডেনের। আর দুই ম্যাচে জয় পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। তবে রেকর্ড কিংবা র‌্যাংকিং, এগুলো যে মাঠের লড়াইয়ে কোন কাজেই আসে না তা এবারের আসরে বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here