প্রভাষকের স্ত্রীর সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাসফিল্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের পরকীয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি প্রমাণিত হলে বিশ্বজিৎ ভাদুরী নামের ওই অধ্যক্ষ অপরাধ স্বীকার করে পদত্যাগও করেন। এ ঘটনায় দুদিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও ভাদুরী বলছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার এবং ওই নারীর সাথে যা হয়েছে তা ছিল ‘দুষ্টুমি’।

অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী তারই কলেজের প্রভাষক ইছা হকের স্ত্রী রেহেনা পারভীনের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হন কয়েক মাস আগে। সম্প্রতি পরকীয়া প্রেমিক জুটির কথোপকথনের একটি রেকর্ডও ছড়িয়ে পড়েছে। ৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড কথোপকথনের ওই অডিও রেকর্ডের একটি অংশে অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরীকে বলতে শোনা যায়- ‘একটু আদর দেবেন।’

জবাবে প্রভাষকের স্ত্রী রেহেনা বলেন, ‘আমি আদর দিতে জানি না। আপনি আছেন এক প্রান্তে, আমি আরেক প্রান্তে। এরমধ্যে চুম্বনের শব্দ, প্রথমে ভাদুরী পরে রেহেনা। এর আগে রেহেনা বাসায় একা একা আছেন বলে জানান ভাদুরীকে। তখন ভাদুরী বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থাকলে চলে আসতাম।’

তবে গত ২৮ জুন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব নাসিবুজ্জামান তালুকদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন রেহেনা পারভীন। অভিযোগ থেকে জানা যায়, অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী ও আইসিটি প্রভাষক ইছা হক জেলা শহরের বিরাসারে একটি বাড়িতে পাশাপাশি ভাড়া থাকতেন। এই সুবাদে ইছা হকের স্ত্রী রেহেনা পারভীনকে প্রায় বিরক্ত করতেন বিশ্বজিৎ ভাদুরী। কয়েকমাস আগে রেহেনা পারভীনকে তিনি ফোন করেন। তাকে অনেক ভালো লাগে বলে জানান। রেহেনার স্বামী ইছা হক কলেজে চলে গেলে প্রায়ই তিনি তার বাসার কলিং বেলে চাপ দিতেন।

গত ২৭ জানুয়ারি চিনাইর বঙ্গবন্ধু অনার্স কলেজে ইছা হক স্ত্রী রেহেনা পারভীন এবং বিশ্বজিৎ ভাদুরী তার ছেলেমেয়ে নিয়ে একটি মেধাবৃত্তির অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে কলেজের অফিসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষের ভেতর পেছনের দিক থেকে চেপে ধরে রেহেনার পিঠে চুমো দেন বিশ্বজিৎ ভাদুরী। বিষয়টি রেহেনা তার পরিবারের লোকজনকে জানান। তারা তখন এ সবের প্রমাণ আছে কি না জানতে চান।

গত ২৫ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত কুমিল্লায় একটি প্রশিক্ষণে ছিলেন অধ্যক্ষ ভাদুরী। তার আগে ২৪ মে বিশ্বজিৎ বাসা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে যান। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে রেহেনার সঙ্গে কথা বলেন। সেই কথোপকথনই রেকর্ড করে রাখেন বলে জানান রেহেনা। সেই সঙ্গে অধ্যক্ষের এমন আচরণের বিষয়টি রেহেনা তার বাবা-মা ও শ্বশুরের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের পরামর্শেই কোম্পানি সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপর রোববার বিষয়টি নিয়ে গভর্নিং কমিটির সভা বসে। সেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যক্ষ ও প্রভাষককে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এরপরই তারা দুজন পদত্যাগ করেন।

অবশ্য অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ ভাদুরী বলছেন, তিনি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার। সিবিএ এবং স্থানীয় শিক্ষকরা তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছে। তাকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। ভয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তাদের (কর্তৃপক্ষ) উচিত ছিল সময় নিয়ে বিষয়টি দেখা।

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের কোম্পানি সচিব নাসিবুজ্জামান তালুকদার বলেন, বিষয়গুলো খুবই নোংরা। একটি অডিও আছে সেটি শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন কী হয়েছে।

অভিযোগকারীর স্বামীর পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজন লোক বাসায় যায়। মেলামেশা করে এতে তার (প্রভাষক) কি কোনো দায়িত্ববোধ ছিল না? যে করে আর যে সমর্থন দেয় তাদের উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। শিক্ষকরা সম্মানিত ব্যক্তি। তাদেরকে আমাদের সন্তানরা অনুসরণ করবে। যে কাজটা তারা করেছেন তাতে তাদের নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here