গুপ্ত সাধনা করতেন নারায়ণ দেবীর ছোট ছেলে ললিত ভাটিয়া ৷ ১০ বছর আগে মৃত বাবার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হত বলে জানিয়েছিলেন তিনি ৷ বাবা-ই তাকে মোক্ষ লাভের এই পথ বলে দিয়েছিলেন ৷ বাবার কথা বিশ্বাস করে শনিবার মধ্যরাতে চোখ, মুখ বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েছিল গোটা ভাটিয়া পরিবার ৷ প্রত্যেকেই ভেবেছিল শেষ মুহূর্তে হয়তো বাবা এসে বাঁচিয়ে দেবেন তাদের ৷ দিল্লির এক পরিবারের ১১ জনের একসঙ্গে রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা ভারতজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। আর সেই গণমৃত্যু নিয়ে আসছে একের পর এক কাহিনি।

এখন জানা যাচ্ছে, ১০ বছর আগে মারা গিয়েছিলেন পরিবারে প্রধান গোপাল দাস। কিন্তু কিছুতেই বাবার সঙ্গে এই বিচ্ছেদ মেনে নিতে পারছিলেন না ৪৫ বছর বয়সী ছেলে ললিত ভাটিয়া, প্রায়ই তার ছবির সঙ্গে কথা বলতেন। মৃত বাবার স্বপ্নাদেশ পেয়েই হয়তো ললিত এ কা- ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে সবার ধারণা ছিল, ফাঁসিতে ঝুললেও তারা মারা যাবেন না! গত রবিবার সকালে দিল্লির বুরারি এলাকার ভাটিয়া পরিবারের সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ময়নাতদন্তের বিস্তারিত এবং বাড়িটি থেকে পাওয়া হাতে লেখা একগুচ্ছ নোট যাচাই করে পুলিশ জানিয়েছে, ৭৭ বছর বয়সী নারায়ণ দেবীর ছেলে ললিত ভাটিয়া এই মৃত্যুর পেছনে কাজ করেছেন। তবে ভগবান তাদের রক্ষা করবেন, এমন বিশ্বাসে অটল ছিলেন তারা। মৃত বাবার কাছ থেকে বার্তা পান বলে পরিবারকে অনেকবার জানিয়েছিলেন ললিত ভাটিয়া।

প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, নারায়ণ দেবীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জানিয়েছে তিনিও ফাঁসিতে আত্মহত্যা করেছেন। মৃতদেহগুলোর শরীরে ধস্তাধস্তির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারটির কিছু সদস্য অন্যদের ফাঁসিতে ঝুলে পড়তে সহায়তা করেছেন। প্রায় সব সদস্যকেই বাড়িটির হলওয়ের সিলিংয়ে লাগানো গ্রিলের জালিকা থেকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সবাই বেশ কাছাকাছিও ছিলেন।

নোট খাতার লেখা বর্ণনার সঙ্গে তাদের যে অবস্থায় পাওয়া গেছে তাও পুরোপুরি মিলে যায়। সবারই মুখম-ল সম্পূর্ণ মোড়ানো অবস্থায় ঢাকা, টেপ লাগিয়ে মুখ বন্ধ করা এবং হাত পিছমোড়া করে বাঁধা ছিল। খাতাগুলোর নোটেও লেখা ছিল, ‘প্রত্যেকে তাদের নিজেদের হাত বাঁধবে এবং ক্রিয়া যখন শেষ হবে হাত বাঁধন মুক্ত করতে প্রত্যেকে প্রত্যেককে সাহায্য করবে।’

জানা গেছে, ললিত বিশ্বাস করতেন তার বাবা তাদের পুরো পরিবারকে পরিত্রাণের পথে নিয়ে যেতে চান এবং ২০১৫ সাল থেকে ওই বিষয়ে ‘নির্দেশনা’ লিখিয়ে আসছেন। নোটগুলোর একটিতে লেখা আছে, ‘আমি আগামীকাল আসব অথবা তার পরদিন। যদি আমি না আসি তবে পরে আসব। ললিতের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ো না, যখন আমি আসি সে উত্তেজিত থাকে।’

নোটগুলোতে নারায়ণ দেবীকে ‘বিবি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মৃতদেহের পাশে বিছানার ওপর একটি স্কার্ফ ও একটি বেল্ট পড়ে ছিল। পুলিশের সন্দেহ, তিনি মারা যাওয়ার পর কেউ একজন তার গলার ফাঁস খুলে তাকে ওভাবে রেখে দিয়েছে। আগের দিন রাতে ওই পরিবারটি ২০টি রুটির অর্ডার দিয়েছিল। আর সেগুলো সরবরাহ করা হয়েছিল শনিবার রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে। নোটগুলোতে লেখা ছিল, নারায়ণ দেবী প্রত্যেককে রুটি খাওয়াবেন। তাই সেগুলোর কিছু খাওয়া হয়েছিল, কিছু পড়েছিল।

নারায়ণ দেবী ছাড়াও আত্মহত্যা করেন নারায়ণ দেবীর মেয়ে প্রতিভা (৫৭), তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা (৩৩), নারায়ণ দেবীর দুই ছেলে ভবনেশ ভাটিয়া (৫০) ও ললিত ভাটিয়া (৪৫), ভবনেশের স্ত্রী সবিতা (৪৮), তাদের তিন সন্তান মিনু (২৩), নিধি (২৫) ও ধ্রুব (১৫) এবং ললিতের স্ত্রী টিনা (৪২) ও তাদের ১৫ বছর বয়সী সন্তান শিভাম। এদের মধ্যে ১৭ জুন প্রিয়াঙ্কার বাগদান হয় এবং চলতি বছরের শেষে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here