মানুষের চাপে যে ঢাকায় নিঃশ্বাস নেয়ার জায়গা নেই, সেখানে নাকি আরও ৫০ লাখের বাসস্থান করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার সকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘টুওয়ার্ড গ্রেটার ঢাকা : এ নিউ আরবান ডেভেলপমেন্ট প্যারাডিগেম ইস্টওয়ার্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়।

ঢাকার উন্নয়নের অপার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে এতে বলা হয়, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই শহরে নতুন ১৮ লাখের কর্মসংস্থান ও ৫০ লাখের বাসস্থান করা যাবে। সেই সঙ্গে বছরে আরও ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিও ফান বলেন, ‘ঢাকার বৃহৎ অবস্থানগত কারণে একে মেগাসিটি করার জন্য পূর্বাঞ্চল একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য অবশ্য সুচিন্তিত প্রস্তাব, পারস্পারিক সাহায্য ও যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়িত করতে হবে। এর ফলে ৫০ লাখ লোকের বাসস্থান ও প্রায় ১৮ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। এগুলো বাস্তবায়নে অবশ্য ব্যয় হবে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার। তবে এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া জনজীবনেও এর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

প্রতিবেদনে ঢাকার উন্নয়নে নতুন তিনটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো বন্যার হাত থেকে বাঁচতে ও পানির গতি ঘোরাতে বালু নদীর তীরে একটি বাঁধ দিতে হবে, ক্রমবর্ধমান সাধারণ ও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট চলাচলের উন্নয়নে সমন্বয় সাধন এবং ঢাকার পূর্বে একটি ‘ব্যবসায়িক জেলা’ গড়ে তুলতে হবে। এই অর্থনৈতিক কার্যক্রম রাজধানীবাসীর আয় বাড়িয়ে দেবে। এখন ঢাকায় যেখানে মাথাপিছু আয় ৮ হাজার ডলারের নিচে সেটা ২০৩৫ সাল নাগাদ ৯ হাজার ২০০ ডলারে উন্নীত করবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৮০ সালে ঢাকায় ৩০ লাখ লোক থাকলেও বর্তমানে বসবাস করছে ১ কোটি ৮০ লাখ। এটি ২০৩৫ সালে ২ কোটি ৫০ লাখে পরিণত হবে। এ কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের ক্ষিণ এশিয়ার প্রধান প্রতিবেক মার্টিন রামা বলেন, ‘ঢাকার বস্তিবাসীরা গ্রামের সাধারণ ব্যক্তির চেয়ে বেশি আয় করে। এ জন্য ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা চাইলেও কমানো যাবে না। অন্যদিকে অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও ট্রাফিক ও জনবিস্ফোরণের ফলে ঢাকার উন্নয়ন যথায হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানীর যানজটের কারণে গত ১০ বছরে গাড়ির গড় গতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে কমে ৭ কিলোমিটারে নেমে এসেছে, যেখানে পায়ে হেঁটে চলার গড় গতি ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটার। শুধু এই যানজটের কারণেই ঢাকায় দিনে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে।’ তবে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবিত পদক্ষেপের ফলে চীনের সাংহাইয়ে পুডং নগরীর মত ঢাকারও উন্নত হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্যানেল আলোচনায় ভিত্তি স্থাপত্য বৃন্দের পরিচালক ইকবাল হাবিব বলেন, ‘রাজধানীর উন্নয়নে পদক্ষেপ ও বাস্তবায়ন রকার, কিন্তু এজন্য নিযুক্ত রাজউজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ। জমি কিনে কতিপয় গোষ্ঠীর জন্য ফ্যাট তৈরির কাজ ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। অথচ ঢাকার উন্নয়নে ভূমির নিয়ন্ত্রণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়নের প্রয়োজন। রাজউক শুধু পরিকল্পনাই করছে।’ এ ছাড়া ঢাকা থেকে কাজ করে নিজ অঞ্চলে ফিরতে পারে এমন ব্যবস্থা করার তাগিদ দেন এই স্থপতি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যান্থ’নি ভিনাবলস। এ ছাড়া প্যানেল আলোচনা করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের চেয়ারম্যান সায়লা জোয়াদ্দার, সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার তারেক করিম ও বিশ্বব্যাংকের প্রাক্টিস ম্যানেজার ফর আরবান ডেভেলপমেন্ট কাতালিনা মারুল্যান্ডা। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার ও পল্লীউন্নয়ন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here