ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনের পদপ্রত্যাশী নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো বৈঠকে ৩২৩ পদপ্রত্যাশীর মধ্যে ২৫০ জনের বক্তব্য শুনেছেন তিনি। ছাত্রলীগ নেতারা তাদের বক্তব্যে সংগঠনের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং বর্তমান নেতৃত্বের দুর্বলতা নিয়েই বেশি কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কথা থাকলেও রাত ৮টার দিকে শুরু হওয়া বৈঠক ১১টার বেশি সময় পর্যন্ত চলে।

ছাত্রলীগ নেতারা তাদের বক্তব্যে সংগঠনের নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং বর্তমান নেতৃত্বের দুর্বলতা নিয়েই বেশি কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত নেতারা জানান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩২৩ প্রার্থীর কথা শুনে কিছুটা চমকে ওঠেন সংগঠনের একসময়ের নেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানতে চান, এতো এতো ছেলেমেয়ে কেন ছাত্রলীগের নেতা হতে চান? জবাবে প্রায় ২৫০ জনই তাদের নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন।

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগকে পরিচালতি করে আসা সাবেক নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট, তাদের হাতে জিম্মি ছাত্রলীগের নেতাকর্মী, দুই নেতার সংগঠন ছাত্রলীগ, নেতৃত্বের ব্যার্থতাসহ নানাবিধ বিষয়ে কথা বলেন পদপ্রত্যাশীরা। তবে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতির উপস্থিতিতেও বক্তব্য রাখার জন্য মাইক টানাটানির ঘটনা ছিল খুবই দৃষ্টিকটু।

ছাত্রলীগ নেতাদের নামে মাদক ব্যবসার অভিযোগের কথা তুলে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নীশিতা ইকবাল নদী। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তার নামে মাদক ব্যবসার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের নেতাদের নামে কুৎসা রটিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা করেছেন।’ নদীর বক্তব্য শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরপর থেকে এমন কোনো নিউজ পত্রিকায় হলে সোজা মামলা করে দিবা। আর কারা এমন নিউজ করে আমাকে জানিও।’

ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি সোহান খান বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় বারবার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। দুর্বল নেতৃত্বের জন্যই এ অবস্থা। আপনি নিশ্চয়ই ১/১১ এর সময় থেকে এখন পর্যন্ত রাজপথে রাজনীতি করেছে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’ এ সময় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী কমিটির এক শীর্ষ নেতা সবার সামনেই সোহানের উদ্দেশ্যে তেড়ে যান। তখন সবাই মিলে তাকে শান্ত করেন।

ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব বলেন, ‘আমি একটা কলেজের সভাপতি ছিলাম, জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে আছি। আমার কলেজে কোটা আন্দোলনকারীদের শক্তহাতে প্রতিহত করেছি, কিন্তু সেই জায়গা থেকে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ব্যর্থ। বারবার দুর্বল নেতৃত্বের কারণে এটা হচ্ছে।’ এ কথার সঙ্গে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা মাথা নেড়ে সায় দেন।

তবে এই বক্তব্যের জবাব গণভবনের ব্যাংকোয়েট হল পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পেয়ে যান রকিব। অনুষ্ঠান শেষে খাবারের জন্য নির্ধারিত স্থানে আসার পরই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। এদের অধিকাংশ ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের অনুসারী।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সাইফুজ্জামান শিখর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তার গাড়িতে উঠিয়ে রকিবকে গণভবন থেকে নিরাপদে বাইরে পাঠিয়ে দেন। পরে আলাপকালে রকিব নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here