ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেই লজ্জার ৪৩ রানের পর বোলিংয়েও হতাশ করেছে টাইগাররা। অ্যান্টিগার স্যার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার পর বোলিংয়ে নেমে ৬৮ ওভার বল করে মাত্র ২টি ক্যারিবিয়ান উইকেট নিতে পেরেছে তারা। অর্থাৎ ২ উইকেটে ২০১ রান তুলে টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

পুরো সিরিজে ক্যারিবিয়ান গতির সামনে যে চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে হবে টাইগারদের তা এক রকম অনুমিতই ছিল। তার উপর উইকেটে সবুজাভ ঘাসের আভা জানান দিচ্ছিল সুইংয়ের বিষের কথাও। তবে আগের দিন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছিলেন চ্যালেঞ্জ নিতে তৈরি তার দল। কিন্তু কোথায় কি! চ্যালেঞ্জ তো দূরের কথা, উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল বাংলাদেশের ইনিংস। আর ক্রেমার রোচ, জেসন হোল্ডার, মিগুয়েল কামিন্স যা করলেন তার বিন্দু মাত্র কিছুও করে দেখাতে পারলেন না বাংলাদেশের তিন পেসার আবু জায়েদ রাহি, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও রুবেল হোসেনরা। ফলে সকালের দুঃস্বপ্নের পর বিকেল শেষে থাকল আতঙ্ক। টেস্টটা ক’দিনে গড়াবে!

চার বছর আগে ক্যারিবিয়ান সফরটিও বাংলাদেশ দলের জন্য ছিল ভুলে যাওয়ার। ২ টেস্টের সিরিজ ও ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। একমাত্র টি-টুয়েন্টিটা ভেস্তে যায় বৃষ্টিতে। সেবার প্রথম টেস্টে ১০ উইকেট আর দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশের হার ২৯৬ রানে। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় সারির ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে অবশ্য দারুণ সব প্রথমের জন্ম দেয় বাংলাদেশ। ২০০৪ সালের সফরে কিছু ব্যক্তিগত অর্জন আর একটা টেস্ট ড্র ছাড়া তেমন কিছুই ছিল না।

এদিন পেসার আবু জায়েদের মাথায় উঠলো টেস্ট ক্যাপ। কিন্তু নিজের স্বপ্নের ম্যাচে দুঃস্বপ্ন সঙ্গী হলো তার। প্রথম সেশনেই নামতে হলো ব্যাটিংয়ে। আবার সেই সেশনেই বল হাতে লড়াই। ১৬ ওভার বল করলেন জায়েদ। বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। দারুণ সুইং পাচ্ছিলেন। তবে ওই উইকেট থেকে যাচ্ছিল মরিচিকা। ক্যারিবিয় দুই ওপেনার ১১৩ রানের জুটি গড়ার পর জায়েদই ভাঙলেন তা। ৫৮ রান করা ডেভন স্মিথকে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ বানান জায়েদ।
কিন্তু তার আগেই ব্যাটিংয়ে মুদ্রার যে পিঠটা দেখেছে টাইগাররা, বোলিংয়েও সেটি দেখে ফেলেছে। ব্র্যাথওয়েট সারা দিন ভুগিয়ে ৮৮ রান করে অপরাজিত থেকে যান। কাইরেন পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৮১ রান। ৪৮ রান কারে পওয়েল ফিরেন মাহমুদউল্লাহর বলে। স্প্লিপে দারুণ এক ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।

এম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে তিন স্পেশালিস্ট উইকেট কিপার। মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস ও নুরুল হাসান সোহান। তবে উইকেটে পিছনের দায়িত্ব সামলেছেন সোহান। কিন্তু দেশের সেরা উইকেটকিপার হিসেবে সবসময় সোহানের নাম উচ্চারিত হলেও লিটন-মুশফিকের সামনেই স্মিথের ক্যাচ ছাড়লেন তিনি। স্মিথ তখন ব্যাট করছিল ৩৪ রানে। সাকিবের বলে মিড অনে ব্র্যাথওয়েটের ক্যাচ ছেড়েছেন আবার মুশফিকুর রহিম। দিন শেষে এসবও থাকলো হতাশার তালিকায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here