বিশ্বকাপের শিরোপাতে পাঁচবার চুমো খেয়েছে ব্রাজিল। ট্রফির কোন পাশটা কেমন- সেটা ভালোই জানা আছে সেলেসাওদের। অন্যদিকে, বেলজিয়ামের সর্বোচ্চ দৌড়, কোয়ার্টার ফাইনাল। তাও ১৯৮৬ সালে। এরপর থেকে আর শেষ আট নিশ্চিত করতে পারেনি ইউরোপের দেশটি। বিশ্বকাপের এমন পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, দুই দলের শক্তি ও অভিজ্ঞতার ফারাক।

আজ সেমি ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে অভিজ্ঞ ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে ‘ডার্ক হর্স’ খ্যাত উজ্জিবীত বেলজিয়াম। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় কাজান এরিনা স্টেডিয়ামে শুরু হবে আগুনে এ ম্যাচটি। কাজানে হবে তো নেইমারদের হলুদ উৎসব। নাকি সেখানে চলবে লাল রঙের আধিপত্য।

বিশ্বকাপের চলতি আসরে ম্যাচ বাই ম্যাচ জ্বলে উঠছে সেলেসাওরা। সুইজারল্যান্ডের সাথে ড্র করে যাত্রা শুরু করা নেইমার-সিলভারা পরের দুই ম্যাচেই পেয়েছে দারুণ জয়। কোস্টারিকা ও সার্বিয়াকে সমান ২-০ ব্যবধানে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখে ব্রাজিল। দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে জয় পায় ২-০ ব্যবধানে। ম্যাচে গোল পেয়েছিলেন নেইমার ও ফিরমিনহো। ইনজুরির কারনে মাঠে নামতে পারেননি দগলাস কস্তা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দলের সমর্থকরে জন্য খুশীর সংবাদ দিয়েছেন কোচ তিতে। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেই সেরা একাদশে দেখা যাবে কস্তাকে। ইনজুরি কাটিয়ে এরইমধ্যে অনুশীলনে ফিরেছেন তারকা এ মিডফিল্ডার। কস্তার ফেরার ম্যাচে মাঠে নামতে পারছেন না দলটির আরেক মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। কার্ড সমস্যার কারনে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সাইড লাইনে বসে থাকতে হচ্ছে তাকে।

তবে কাজানে আজ বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নামবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। কারন অতীত রেকর্ড ও বর্তমান পারফর্ম্যান্স, সবকিছু মিলিয়ে এগিয়ে আছে ল্যাটিনের দলটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিল-বেলজিয়াম মুখোমুখি হয়েছিল চারবার। এর মধ্যে একবার জয় আছে বেলজিয়ামের। সেটা ১৯৬৩ সালে প্রথম সাক্ষাতে। পরের তিন আসরেই জয়ের হাসি হেসেছে ব্রাজিল। এরমধ্যে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচও আছে। জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে সর্বশেষ সাক্ষাতে ব্রাজিল ২-০ গোলে ধরাশায়ী করেছিল ইউরোপের দলটিকে।

তবে কাগজে-কলমে শক্তির বিচার কিংবা পরিসংখ্যান যাই বলুক না কেনো- প্রতিপক্ষ হিসেবে বেলজিয়াম যে সমীহ পাওয়ার মতো তা ভালোই জানে টিম ব্রাজিল। দলটির তারকা ফুটবলার থিয়াগো সিলভা অকপটেই সে কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বেলজিয়াম ম্যাচটা আমারে জন্য হতে যাচ্ছে সব থেকে কঠিন একটি ম্যাচ। তাদের খেলোয়াড়দের দিকে দেখুন, দারুণ কৌশলের কি থেকে ওরা খুবই শক্তিশালী। শারীরিক দিক থেকেও বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা শক্তিশালী। তবে, আমি মনে করি নিজেদের সেরাটা দিলে এই ম্যাচে জয় আমরাই পাব। কারণ, সব প্রতিযোগিতায় ব্রাজিল ফেভারিট থাকে।’

চলতি এ আসরে বেলজিয়াম ইতোমধ্যেই নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও টানা তিন গোল করে ম্যাচ নিজেদের করে নেয়। নক আউট পর্বে পাওয়া এমন জয়টি দারুণ উজ্জিবীত করে তুলেছে ইডেন হ্যাজার্ডবাহিনীকে। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নতুন এক বেলজিয়ামকে খো যাবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বেলজিয়ামের গোল মেশিন রোমেলু লুকাকু আতংক হয়ে দেখা দিতে পারেন ব্রাজিলিয়ানদের জন্য। গ্রুপ পর্বে চার গোল করে সর্বোচ্চ স্কোরারের দুই নম্বরে আছেন। লুকাকুর সাথে আক্রমনভাগে আছে ইডেন হ্যাজার্ডের মতো তারকা ফুটবলার। মধ্যমাঠ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রস্তুত আছেন তারকা মিডফিল্ডার কেভিন ব্রুইনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here