বিশ্বকাপের চলতি আসরে যে কটি দল তাক লাগিয়েছে, তারে মধ্যে অন্যতম সুইডেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুটবল টুর্নামেন্টের গত দুটি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা দলটি এবার কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখে চমকিত করেছে পুরো বিশ্বকে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করা দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে গিয়েছিল জার্মানির কাছে। আর শেষ ম্যাচে মেক্সিকোর মতো শক্তিশালী দলকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পা রাখে সেরা ষোল’তে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইজারল্যান্ডকে ধরাশায়ী করে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লিখিয়ে সমীহ আায় করে নিয়েছে ইউরোপের লটি। আজ সেমি ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ফুটবলের আরেক পরাশক্তি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে সুইডিশরা। বাংলাশে সময় রাত আটটায় সামারা এরিনাতে শুরু হবে এ ফুটবল দ্বৈরথ।

বিশ্বকাপে সুইডেনের সর্বোচ্চ অর্জন রানার্সআপ ট্রফি জয়। ১৯৫৮ সালে স্বাগতিক হয়ে ব্রাজিলের কাছে ট্রফি হেরেছিল। এরপর আরো দুবার সেমিফাইনাল খেলে। কিন্তু কখনোই ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেনি দলটি। শুধু তাই নয়, ২০১০ এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে খেলারও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি সুইডিশরা। টানা দুই আসর বাইরে থাকার পর এবার আবারও বিশ্বকাপে ফিরে এসেছে দলটি। মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির মতো দলকে বিায় করে দিয়েই। তাই শুরু থেকেই সুইডেনকে নিয়ে রঙ্গীন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন সমর্থকরা। সবার প্রত্যাশা পূরণও করেছে দলটি। কোচ জেন এন্ডারসনের অধীনে একঝাঁক তরুণ এবং অভিজ্ঞ ফুটবলার নিয়ে এবার দল গড়েছেন। যে দলটি একের পর এক চমক দেখিয়ে চলেছে। সেবাস্তিয়ান লারসন, জিমি ডারমাজ, জন গুইডেত্তি, অস্কার হেলজমার্ক, ভিক্টর ক্লেসন, ভিক্টর লিনডেলফের মতো ফুটবলার আছেন সুইডেন শিবিরে। তাই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ আটের লড়াইয়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে দলটি।

দুই দলের সাক্ষাতের ইতিহাসও সমান সমান। ২৩ বারের মোকাবেলায় সাতটি করে জয় আছে দু’দলেরই। ৯টি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। আর বিশ্বকাপের মহামঞ্চে দুইবারের লড়াইয়ে কেউ জয় কিংবা হারেনি। তাই আজকের ম্যাচে কে জিতবে সেটা বলা খুবই মুশকিল। তবে আগুনে এ ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন। চার ম্যাচে ৬ গোল করে এরইমধ্যে গোল্ডেন বুট জয়ীরে তালিকার শীর্ষ স্থানটি খল করে নিয়েছেন তিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণূর্গ তছনছ করে তিনটি ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছেন এ স্ট্রাইকার। আক্রমনভাগে ইংল্যান্ডের মূল ভরসা কেন। তার উপরই নির্ভর করছে দলের জয়-পরাজয়। আজ যদি সামারা এরিনায় হ্যারি কেন স্বরুপে জ্বলে উঠতে পারেন তবে পরিসংখ্যান আর কোন কাজে আসবে না। সুইডেনের টুঁটি চেপে সেমি ফাইনালে পা রাখেবে ইংল্যান্ড।

গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নক আউট পর্ব, প্রতিটি স্তরেই এবার ইংলিশরা দ্পট দেখিয়েছে। তিউনেশিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে যাত্রা শুরু করা দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে ৬-১ গোলে পানামাকে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা।

নক আউট পর্বে কলম্বিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর টাই ব্রেকারে গিয়ে ৪-৩ গোলের জয় পায় থ্রি লায়নরা। কোচ গ্যারেথ সাউথগেট অবশ্য শুধু হ্যারি কেনের দিকেই নন, পুরো টিমের উপরই আত্মবিশ্বাস রাখতে চাইছেন। মার্কাস রাশফোর্ড, স্টার্লিং, জেমি ওয়ার্ডি, ড্যানি ওয়েলবেকও সমর্থকরে প্রত্যাশার পারদা করেছেন উর্ধ্বমূখী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here