প্রথম দল হিসেবে রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। লাতিন ফুটবল পরাশক্তি উরুগুয়েকে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছে গেছে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা। আধিপত্য বজায় রেখে ফরাসি ফুটবল বিপ্লব সংগঠনে যিনি অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি আর কেউ নন এতোদিন মুখ বুজে সমালোচনা হজম করে যাওয়া পল পগবা।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ের প্রবেশপত্র এনে দিয়েই নিজের সামর্থ্যে প্রমাণ দিয়েছেন তারকা এ মিডফিল্ডার। সঙ্গে জানান দিয়েছেন, কোচ দিদিয়ের দেশমের দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি।

মিলিটারি বাহিনীর মতো সুংগঠিত সাবেক বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে বল দখলের লড়াইয়ে ফরাসি প্লেমেকার পোগবা নিঁখুত প্রভাব বিস্তার করে গেছেন নীরবে। সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন, শোমসের দল বল পায়ে যে কোনো দলের জন্য গুপ্ত ঘাতক হয়ে উঠতে পারে। ম্যাচের শুরুর দিকে উরুগুয়ে ব্যাপকভাবে দুর্ভেদ্য হয়ে উঠেছিল। ফ্রান্স ঠিক তেমন ভাবে লাতিন রক্ষণ দূর্গের চিড় খুঁজে পাচ্ছিল না। কিন্তু রাফায়েল ভারানের গোলে লেস ব্লুস শিবির এগিয়ে যাওয়ার পরই ২৫ বছরের এই তারকা ফুটবলার মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াতে থাকেন।

যারা বিশ্বাস করেন পোগবা কাজের কাজ কিছুই করতে পারেন না। শুধু পারেন বিতর্কের জন্ম দিতে। খালি জায়গা পেলেই কেবল বল নিয়ে দৌড়াতে স্বস্তি বোধ করেন। ব্লেইজ মাতুইতি ছাড়া ভালো পারফর্ম করতে পারেন না। তাদের উরুগুয়ের বিপক্ষে পোগবার পারফরম্যান্সটা দেখা উচিত। ম্যাচে পোগবা প্রমাণ করেছেন, মাতুইতিকে ছাড়া পোগবা আলো ছড়াতে পারেন। লাইনের বাইরে যাওয়া থেকে বল রুখতে পারেন। ফ্রান্সের হয়ে খেলায় হাল ধরতে পারেন। ম্যাচে বজায় রাখতে পারেন আধিপত্য। এ কাজ গুলো তিনি করেছেন নিজস্ব স্টাইলে এবং ঠান্ডা মাথায়।

বিশ্বকাপের রাডারের সৃষ্টি থেকে কিছুটা হলেও ছিটকে গিয়ে ছিলেন পোগবা। কিন্তু উরুগুয়ের বিপক্ষে কোনো ভুল না করে দেখিয়ে দিয়েছেন, টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা প্রভাবশালী মিডফিল্ডার তিনি। এখন দেখছেন জানা শোনা বেলজিয়াম ফুটবলারদের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নিজের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ফাইনালে উঠার স্বপ্ন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here