‘সুন্দর স্বপ্নে কাটুক আজকের রাতটা। সবাইকে শুভরাত্রি।’ রোববার রাতে ফেসবুকে এ শুভকামনা জানায় থাই নৌবাহিনী। শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে থাম লুয়াং গুহায় আটকা পড়াদের মধ্য থেকে চার খুদে ফুটবলারকে উদ্ধারের পর এ স্বস্তি। শুধু থাইল্যান্ড নয়, বিশ্বজুড়েই প্রশংসা হচ্ছে দ্রুত ও সফল উদ্ধারাভিযানের। কিন্তু এখনো উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে আটকে থাকা বাকি নয়জনকে নিয়ে।

রোববার রাতে বৃষ্টি নামায় চার শিশুকে উদ্ধারের পর ১০ ঘণ্টার জন্য অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারে আজ সোমবার সকালে আবার অভিযান শুরু হওয়ার কথা। খবর ব্যাংকক পোস্ট, বিবিসি, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের।

চিয়াং রাই প্রদেশের ওই গুহায় বেড়াতে গিয়ে ২৩ জুন নিখোঁজ হন স্থানীয় একটি কিশোর ফুটবল দলের ১৩ সদস্য। এদের মধ্যে ১২ জন কিশোর। আর অপরজন ‘মু পা’ (বন্য শূকর) দলটির সহকারী কোচ একাপল চ্যান্তাওং (২৫)।

উদ্ধার অভিযানে থাইল্যান্ডের সঙ্গে চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের হাজারের বেশি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত সংশ্লিষ্ট নানা পেশার মানুষ সম্পৃক্ত রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে গতকালই এসব ‘সাহসী ও মেধাবী’ মানুষের প্রশংসা করেছেন। জীবনবাজি রেখে উদ্ধারে নামা ডুবুরিদের ‘সত্যিকারের সুপার হিরো’ বলে অভিহিত করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা।

আটকা পড়ার দশ দিনের মাথায় গুহার প্রবেশমুখ থেকে চার কিলোমিটার দূরে মাটির আটশ মিটার নিচে ১৩ জনেরই জীবিত সন্ধান পান দুই ব্রিটিশ ডুবুরি। এরপর তাদের উদ্ধারে সবরকম উপায় খতিয়ে দেখছিল কর্তৃপক্ষ।

ভাবা হয়েছিল, মাটি খুঁড়ে কূপ তৈরি করে হেলিকপ্টারে করে কিশোরদের উদ্ধার করা যেতে পারে। কিন্তু এতে সময় কম লাগলেও ঝুঁকি অনেক। আর বিকল্প উপায় হচ্ছে, প্রশিক্ষিত ডুবুরিদের সাহায্যে ডুব-সাঁতার দিয়ে কিশোরদের বের করে আনা। কিন্তু ভারী বর্ষণে গুহা প্লাবিত হওয়ায় এতে অনেক সময় লাগার কথা।

এমনকি বলা হয়েছিল, যেহেতু কিশোররা সাঁতার জানে না, সে কারণে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে সন্ধান পাওয়ার পরপরই তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ডাক্তার ও নার্সকে। পাঠানো হয় ডুবুরিদের, তারা ওদের ডুব-সাঁতার শেখাচ্ছিলেন।

বৃষ্টির আশঙ্কায় কিশোরদের উদ্ধারে রবিবার ‘ডি-ডে’ নামের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। প্রথম ধাপে ভেতরে ১৮ ডুবুরিকে পাঠানো হয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গতকাল পর্যন্ত চার কিশোর উদ্ধার হয়। গুহামুখে তাদের বের করে আনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারে করে চিয়াং রাই শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারা সবাই সুস্থ আছে।

উদ্ধারাভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রাদেশিক গভর্নর নারংসাক ওসত্তানাকর্ন। তিনি বলেন, ‘১৬ দিন ধরে আজকের দিনটার জন্য আমরা প্রতীক্ষায় ছিলাম। আমরা মু পা দলের বালকদের দেখতে পাচ্ছি।’

১৩ জনের মধ্যে যাদের অবস্থা কিছুটা নাজুক, তাদের আগে উদ্ধার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যারা এখনও শক্ত আছে, তুলনামূলক সুস্থ শরীরে আছে, তাদের শেষে উদ্ধার করা হবে। এর আগে দুটি ভিডিওবার্তায় এবং হাতে লেখা চিঠিতে কিশোররা তাদের অভিভাবকদের জানায়, তারা ভালো আছে। তারা তাদের জন্য দুশ্চিন্তা না করতে অনুরোধ জানায়।

প্রথম দফার অভিযান বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় ওসত্তানাকর্ন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রস্তুত রাখা অক্সিজেন ট্যাংক সবগুলোই ব্যবহার করা হয়ে গেছে। এছাড়া একবার উদ্ধার প্রক্রিয়ায় যেহেতু ১০ ঘণ্টার বেশি সময় দরকার, তাই প্রথম দফার অভিযান স্থগিত করা হলো। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান শুরু হওয়ার কথা।

সত্যিকারের সুপার হিরো

গুহামুখ থেকে কিছুটা ভেতরে বেজক্যাম্প করা হয়েছে। সেখানে থাইল্যান্ডের ৪০ জন এবং ৫০ বিদেশি ডুবুরি চূড়ান্ত অভিযানের অংশ হিসেবে প্রস্তুত রয়েছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যেমনটা আশঙ্কা করছিল, গতরাতেই আবার বৃষ্টি হয়েছে। গুহার ভেতর জলের মাত্রা বেড়ে গেলে, অভিযান ব্যাহত হবে। ফলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা কমছে না সহসা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here