নক-আউট পর্বে আসতেই দুই বিশ্বকাপ জয়ীকে দেশে পাঠিয়েছে ফ্রান্স। আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ফরাসি তারুণ্যের চাপে গুড়িয়ে গেছে। দুরন্ত ফুটবলের সৌরভ ছড়িয়ে ফুটবলের বিশ্ব মঞ্চের শেষ চারে এখন কোচ দেশমের দল। দলের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও মন ভরাতে পারছে না কোচের মন। দল নাকি এখনো নিজেরে সামর্থের চেয়ে খুব কমই দেখাতে পেরেছে। তবে একটু একটু করে উন্নতি করে চলেছে ফ্রান্স।

তার বিশ্বাস, সেন্ট পিটারবুর্গের ক্রেস্তোভস্কি স্টেডিয়ামে আজ ফরাসি দল আগের চেয়ে আরো আগুনে পারফরম্যান্স উপহার দিবে। সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামকে এমন ভয়ানক সতর্কবাণী পাঠিয়েছেন ফরাসি ফুটবল গুরু দেশম।

ধীরে চল নীতিতে গ্রুপ পর্ব কোনো রকমে পার হয়েছে ফ্রান্স। কিন্তু শেষ ষোল পর্বে এসেই দিয়েছে বিস্ফোরক পারফরম্যান্স। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ৪-৩ গোলে বিদায় করে দিয়েছে বিশ্বের ফুটবল মহাযজ্ঞ থেকে। কোয়ার্টার ফাইনালে তেজস্বী উরুগুয়েকে ২-০ গোলে পরাস্ত করে ফের চমকে দেয় ফ্রান্স। এ ধারাবাহিকতায় ক্রমে তেজদীপ্ত হয়ে উঠার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন কোচ দেশমস, ‘প্রথম রাউন্ডটা আমাদের জন্য জটিল ছিল। পারফরম্যান্সটা মনোমুগ্ধকর হয়নি। তবে বাস্তবিক ও কার্যকরী ছিল। আমাদের বিশ্বকাপ মিশনে ছেদ পড়েনি। কিন্তু আর্জেন্টিনার ম্যাচ থেকেই আমরা নিজেদের শক্তিমত্তা দেখিয়ে আসছি। উরুগুয়ের বিপক্ষেও আমরা ভালো খেলেছি। কিছু কিছু জায়গায় এখনো ঘাটতি রয়েছে। বিশ্বকে তাক লাগানোর জন্য আরো অনেক সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের মধ্যে।’

গড়ে ২৬ বছরের ফুটবলারদের দল নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে এখনো ঠিকে আছে ফ্রান্স। তুলনামূলক তরুণ দলটি নিজেরে পরিপক্বতা দেখিয়েছে। আর এতেই খুশি কোচ দেশামস, ‘আমার রয়েছে তরুণ একটি দল। যারা দল হিসেবে এখন কাজ করে যাচ্ছে। দিন দিন আরো বেশি দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ হয়ে উঠছে। আপনারা দেখেছেন তাদের মানসিকতা কতটা ইতিবাচক। দলের অনেক উন্নতি হয়েছে।’

শেষ চারে পৌঁছে নিজের লক্ষ্যটা পূর্ণ করেছেন দেশম। এনিয়ে প্রশ্নটা করতেই বিষয়টি খানিকটা এড়িয়ে গেলেন তিনি। আভাস দিলেন তার দলের লক্ষ্য আরো বড়। বিশ্বকাপ ছিনিয়ে নেয়াই তারে চরম ও পরম উদ্দেশ্য, ‘লক্ষ্য পৌঁছানোটা আমার পছন্দের। কিন্তু বিষয়টা আমি আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছি না। আমার দল আর কোচিং স্টাফ আমার গর্ব।’

৩৮০ মিনিট খেলে রাশিয়া আসরে এখনো পর্যন্ত গোল করতে পারেননি অলিভার জিরুদ। কিন্তু তারপরও চেলসির এই স্ট্রাইকারের ওপর আস্থা রাখছেন কোচ দেশামস। সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও জিরুদকে লে রাখবেন তিনি, ‘এটা সত্য অলিভার এখনো পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। কিন্তু তারপরও আমি তাকে দলে রাখব।’ ২৬৮ মিনিট খেলে গোল না পেয়েও স্টেফেন গাইভারাচ যেমন ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ে পথে ফ্রান্সের জন্য ভূমিকা রেখেছিল। ঠিক তেমনি জিরুও লের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্সের জন্য নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শেমস অন্তত তেমনটাই মনে করছেন, ‘অলিভার আমাদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ আমারে খেলার স্টাইলের জন্য। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সে এমবাপেকে গোল করতে সহায়তা করেছিল। খেলায় এমন ধরণের সাপোর্টই রকার আমারে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here