গোলকিপিং, ডিফেন্স, মিডফিল্ড আর ফরোয়ার্ড ফুটবল মাঠের পজিশন চারটি। সবচেয়ে ট্রিকি পজিশন হলো গোলকিপিং। আধুনিক ফুটবলে বল আটকানোই সব কিছু নয়, গোলকিপারের রোল অনেক বিস্তৃত।

পুরো মাঠটা একসঙ্গে কেবল তিনিই দেখতে পান বলে ট্যাক্টিক্যাল অনেক ভুলভ্রান্তিও ধরিয়ে দিতে হয়, পাশাপাশি কাজ করতে হয় ডিফেন্সের নেতা হিসেবেও। কেউ কেই আবার পুরো দলের জন্য হয়ে দাঁড়ান অনুপ্রেরণা। রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে তেমনই ভূমিকা রাখত হবে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া আর ফ্রান্সের হুগো লরিসকে।

ডার্ক হর্স বেলজিয়াম শিবিরে আছে চ্যাম্পিয়ন এক গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। চেলসির ইয়ুথ একাডেমির হলেও নিজের জাত চেনান অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে স্প্যানিশ লা লিগার সেরা গোলরক্ষক হয়ে। অ্যাথলেটিকো জিতিয়েছেন লা লিগার শিরোপা। পরে চেলসিতে ফিরে পিটার চেককে হটিয়ে হয়েছেন ক্লাবের এক নম্বর গোলরক্ষক। বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পার করিয়েছেন হেসে খেলে। ফলে রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকে স্পটলাইটে ছিলেন কর্তোয়া। গ্রুপপর্ব তো বটেই কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে দেখান নিজের সক্ষমতা। সেলেসাওদের বিপক্ষে বেলজিয়ামের জয়ের নায়ক তিনি। গোল হওয়ার মতো ব্রাজিলের ছয়টি শট ঠেকিয়েছিলেন তিনি। ম্যাচের শেষ সময়ে নেইমারের দারুণ শটটি তিনি যেভাবে ফিরিয়েছেন তা ছিল দুর্দান্ত। সুতরাং ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের তুরুপের তাস হিসেবে থাকবেন চেলসির এই গোলরক্ষক।

ফ্রান্সের আক্রমণভাগের নাম গুলো বেশ ভয়ঙ্কর, আন্তেনিও গ্রিজম্যান, কিলিয়ান এমবাপে। এছাড়া আছেন পল পগবাও মতো তারকা ফুটবলার। তাদের রুখতে বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হবে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কোর্তোয়াকে। আর একটু ভুলের মাসুল দিতে হবে বেশ বড় সড়। সেই ভুল কিছুতেই করতে চাইবেন না তিনি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে বেশ সম্ভাবনা নিয়ে আগমন হয়েছিলো ফ্রান্সের গোলরক্ষক হুগো লরিসের। হালের সেরা গোলরক্ষক হওয়ার সব সম্ভাবনা ছিলো তাঁর। তা না হলেও লরিস বর্তমানে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক। টটেনহ্যামের হয়ে বেশ ভালো একটা মৌসুম কাটান তিনি। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমের হাতে পিএসজিতে খেলা আরিওলা বিকল্প হিসেবে থাকলেও এক নম্বর গোলরক্ষক লরিসই। ফরাসিদের নেতৃত্বের ভারও তাঁর কাঁধে। রাশিয়া বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গোলপোস্টের নিচেও দুর্দান্ত পারফরম করছেন তিনি। বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ দক্ষতায় বেশ কিছু গোল বাঁচিয়ে দলকে রক্ষা করেন তিনি। আর তা না হলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো।

সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে রুখে দিতে ফ্রান্স কোচের বড় ভরসা তিনি। লুকাকু-হ্যাজার্ড-ডি ব্রুইনের পাওয়ার ফুল শটগুলো আটকে দিতে পারলে ফরাসি শিবির এগিয়ে যাবে ফাইনালের পথে। আর যদি তা না হয় তাহলে ফিরে যেতে হবে দেশে। তাই স্পটলাইটে থাকবেন লরিস।

রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরুতে টেলস্টর ১৮ বল নিয়ে খুব হৈ চৈ হয়। বাতাসে নড়াচড়া এবং আনপ্রেডিক্টবল মুভমেন্টের কারণে বলটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন তারকা গোলরক্ষকরা। সেই তালিকায় ছিলেন লরিস ও কোর্তোয়া। কিন্তু বিশ্বকাপের শেষ দিকে এসে গ্রিজম্যান-এমবাপে এবং লুকাকু-হ্যাজার্ডদের মতো ডেডলি স্ট্রাইকারদের ছুঁড়ে দেয়া চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়াই এখন বড় কথা লরিস ও কোর্তোয়ার সামনে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here