‘বেদনার রঙ নীল হলে আকাশ কেন নীল/ উল্লাসে ডানা মেলে উড়ে শঙ্খচিল…।’ শিল্পী অর্ণব গানে গানেই বেদনার রঙ নীল কিনা, প্রশ্ন রেখেছেন। তাহলে কষ্টের রঙ নিয়ে আমার কেন প্রশ্ন থাকবে না? আসলে পৃথিবীর সব প্রাণের অনুভূতি একরকম নয়, পার্থক্য রয়েছে অনেক। যার অনুভূতি প্রখর, তারা সহজেই চুপসে যায়। তার বাস্তব প্রমাণ লজ্জাবতী গাছ, একটু ছোঁয়াতেই রাজ্যের অভিমান।

রাশিয়ার স্ট্রাইকার ফেদর স্মলভের কথাই ধরুন না, গোল মিস করার পর মাথার উপরের আকশাটা ভেঙে যখন কষ্ট ভর করছিল, তখন তার সামনে ছিল কেবলই সবুজ। সুবজ ঘাসের বিশাল মাঠ, সবুজ গ্যালারি, শট আটকে দেওয়া গোলরক্ষক ড্যানিয়েল সুবাসিচের গায়ের সবুজ জার্সি। তার কাছে বেদনার রঙটা তখন সবুজই মনে হয়েছিল!

গ্রুপ পর্বে মিশরকে হারানো থেকে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনবধ। সব অঘটন ঘটিয়েই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্বাগতিক রাশিয়া। শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধেও প্রচণ্ড লড়াই করেন রুশ ফুটবলাররা। ২-২ গোলে অমিমাংসিত খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম শটটি নিতে যান ২৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ফেদর স্মলভ, কিন্তু ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁ হাতে দুর্বল গতির বলটি আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক সুবাসিচ। গম গম করা স্টেডিয়ামে তখন পিনপতনের শব্দও নেই।

তিন নম্বরে শট করতে এসে পোস্টের বাইরে মারেন রাশিয়ান মারিয়ো ফার্নান্দেসও। সেই সঙ্গেই অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে যায় সেমিফাইনাল মিশন। অথচ ব্রাজিলিয় বংশদ্ভূত এই ফার্নান্দেসের গোলেই একেবারে শেষ সময়ে সমতায় ফেরে রুশরা। তার জন্যই টাইব্রেকার পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছিল দল। নাহলে অতিরিক্ত সময়ে ভিদার গোলেই ম্যাচ জিতে নিত ক্রোটরা। মানসিক চাপের কাছেই যে হার মানতে হয়েছে আকিনফিভরদের, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে খেলা শেষ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। দুই দলের সব খেলোয়াড়ই দর্শকদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে গেছেন ড্রেসিংরুমে। চলে গেছেন রেফারির দল আর কোচিং স্টাফরাও। প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে গ্যালারি। কিন্তু মাঠের মাঝখানে একা বসে আছেন ফেদর স্মলভ। চোখ গড়িয়ে পড়ছে রাশি রাশি জল। বেদনার সবুজ রঙটা যে তাকে খোড়ে খোড়ে খাচ্ছে। মনের মধ্যে নিশ্চয়ই আওড়াচ্ছেন- ইস্ বলটা যদি বাঁ দিকে না মেরে ডানে মারতাম, তাহলে আজকের এই দিনটার জন্য আমাকে কেউ দায়ি করতো না। নয়কের আসন থেকে নামিয়ে আমাকে কেউ খলনায়ক বানাতো না!

নিজের দেশে হওয়া বিশ্বকাপে দেশকে আরও একধাপ তুলতে না পারার পেছনে হয়তো প্রধান দায় থেকে গেল তারই। তাই সবশেষেও মাঠে বসেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য বলেছেন, ‘পেনাল্টি মিস করার সব দায় আমারই। এই ঘটনা যে আমার সঙ্গেই ঘটল, সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। তবে এর থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি আরও যোগ্য হয়ে উঠব।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here