মায়ের পরে সন্তানের কাছে সবচেয়ে ভরসার স্থান বাবা। বটবৃক্ষ হয়ে তিনি যেন সব বিপদ-আপদ থেকে আগলে রাখেন সন্তানকে। তাই যার বাবা নেই, কেবল সেই বোঝে এর অভাব কতটুকু। চাঁদপুরের মতলব থানার মো. শাহজাহান তাই গত ১৫ বছর ধরে বহু জায়গায় খুঁজেছেন তার হারিয়ে যাওয়া বাবাকে। অবশেষে গত রোববার তিনি খুঁজে পেয়েছেন বাবা আবুল খায়েরকে।

পেশায় দিনমজুর হলেও বাবার প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণেই ১৫ বছর পর তাকে খুঁজে পেয়ে আনন্দে অশ্রুসিক্ত হন শাজাহান। ২০১২ সালে নিখোঁজ হওয়া আবুল খায়েরকে গত ৮ জুলাই রোববার সকালে সাতক্ষীরার ত্রিশমাইলে পাওয়া যায়।

শাজাহানের পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৫ বছর আগে কোনো এক বিকেলে চা পানের কথা বলে হুট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান ৫৫ বছর বয়স্ক আবুল খায়ের। স্থানীয়ভাবে তাকে সবাই লনু মিঞা বলে চেনে। ২ ছেলে ও ৫ মেয়ের জনক লনু মিঞা মানসিকভাবে কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ। তবে তার আচরণের মধ্যে পাগলামির তেমন নমুনা ছিল না। লনু মিঞা চা পানের কথা বলে সেই যে বেরিয়ে যান আর বাড়ি ফেরেননি।

পাটকেলঘাটা থানার ত্রিশমাইল এলাকার চা বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, মাস তিনেক আগে স্থানীয় সাইকেল মিস্ত্রি গাউসের দোকানের সামনে বৃদ্ধ লোকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি তাকে মসজিদের পাশে থাকতে দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি অপরিচিত এই লোকটাকে খাইয়েছেন। এমনকি তার চিকিৎসাসেবাও দিয়েছেন। পরে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তার থাকার জন্য একটা জায়গাও করে দেন। এভাবেই চলছিল। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা চিন্তায় পড়ে যান। বয়স্ক লোকটা কোনো কথা না বলায় তার পরিচয় জানা সম্ভব হচ্ছিল না। অনেক চেষ্টার পর তার পরিচয় জানা সম্ভব হয়। পরে তার পকেটে থাকা কিছু চিরকুটের লেখা থেকে তার ঠিকানা সংগ্রহ করে তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেন।

পরে সাতক্ষীরার সাংবাদিকরা চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজ মেলে লনু মিঞার পরিবারের। তার একটি কান বোঁচা দেখেই নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনিই সেই হারিয়ে যাওয়া লনু মিঞা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here