জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১০৫ মিলিয়ন ইউরোতে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালির জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। যদিও হাল সময়ে রোনালদোর নামের সঙ্গে সমার্থক হয়ে ওঠা রিয়াল মাদ্রিদকে সশরীরে বিদায় বলা সম্ভব হয়নি সিআর সেভেনের। তাই প্রিয় ক্লাব থেকে বিদায়বেলায় আবেগঘন এক চিঠিতে রিয়াল স্টাফ, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন রোনালদো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা খোলা চিঠিতে রোনালদো লেখেন- ‘মাদ্রিদ শহর ও রিয়াল মাদ্রিদে কাটিয়ে যাওয়া এই বছরগুলো সম্ভবত আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়। এই ক্লাব, ক্লাবের সমর্থক, এই শহরের প্রতি আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ। আমাকে তারা যেভাবে ভালোবেসেছে, আমার প্রতি যে আবেগ দেখিয়েছে তাতে সবাইকে কেবল ধন্যবাদই দিতে পারি।

আমি বিশ্বাস করি জীবনের নতুন ধাপে পা রাখার সময় হয়েছে। এই কারণে ক্লাবকে বলেছিলাম আমাকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য। আমি এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। সবাইকে বলি, বিশেষ করে ক্লাবের সমর্থকদের, দয়া করে আমাকে বোঝার চেষ্টা করুন। অসাধারণ ও তুলনাহীন নয়টা বছর। আমার কাছে রোমাঞ্চকর সময় ছিল এটা। যদিও আমার কাছে রিয়াল মাদ্রিদের অনেক প্রত্যাশা থাকায় সময়টা বেশ কঠিন ছিল। তবে এটা নিয়ে সব সময়ই সচেতন ছিলাম। এখানে ফুটবল খেলা যতটা উপভোগ করেছি, তা কখনোই ভুলব না।

এই নয় বছরে ড্রেসিংরুম ও মাঠে অসাধারণ সব সঙ্গী পেয়েছি। শুধু তাই নয়, দুর্দান্ত সব সমর্থকের যে আবেগ সেটাও সব সময় টের পেয়েছি। সবাই মিলে আমরা টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছি এবং পাঁচ বছরে চারটি শিরোপা জিতেছি। এ ছাড়াও, ব্যক্তিগতভাবে চারটি ব্যালন ডি’অর ও তিনটি গোল্ডেন বুট জিতেছি।

এসবই আমার ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে এই বিশাল ও অসাধারণ এক ক্লাবে খেলেছি বলেই। রিয়াল মাদ্রিদের জায়গা আমার হৃদয়ে। এমনকি আমার পরিবারের হৃদয়েও জায়গা করে নিয়েছে ক্লাবটি। আর এই কারণেই অন্য যেকোনো সময়ের চেয়েও বেশি করে বলতে চাই, ধন্যবাদ। ক্লাব সভাপতিকে ধন্যবাদ, বোর্ডকে ধন্যবাদ, আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ, সব কোচ, ফিজিও এবং ক্লাবের অসাধারণ সব কর্মীদেরও ধন্যবাদ, যারা ক্লান্তিহীনভাবে সবকিছু সচল রাখছেন, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়েও নজর রাখছেন।

সব সমর্থক ও স্প্যানিশ ফুটবলের প্রতি আবারও অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই নয় বছরে আমি বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড়ের বিপক্ষেও খেলেছি। আমি তাদের প্রতিও আমার সম্মান এবং শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। আমি অনেক লম্বা সময় নিয়ে ভেবেছি এবং তারপরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, জীবনে নতুন কিছু শুরু করার সময় এসেছে। আমি এই জার্সি ছেড়ে যাচ্ছি ঠিকই কিন্তু যেখানেই থাকি না কেন রিয়াল মাদ্রিদ ও সান্তিয়াগো বার্নাব্যু আমার সারাজীবনের জন্য অংশ হয়ে থাকবে।

সবাইকে ধন্যবাদ এবং এই স্টেডিয়ামে নয় বছর আগে প্রথমবার যেমন বলেছিলাম, হালা মাদ্রিদ!’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here