রাশিয়া বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইংল্যান্ডকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বেলজিয়াম। বেলিসরা রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ করেছে তৃতীয় সেরা হয়ে। লুকাকু-হ্যাজার্ডরা বেলজিয়ামকে বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি। তবে ব্রোঞ্জ পদক এনে দিয়েছেন দেশকে। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটাই এখন বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে বেলজিয়াম। সেবার ফ্রান্সের কাছে ৪-২ গোলে হারে বেলজিয়াম।

ম্যাচের শুরুতে ইংল্যান্ডের জালে গোল দিয়ে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত দুই হলুদ কার্ড দেখায় সেমিফাইনালের ম্যাচে খেলতে পারেননি বেলজিয়াম তারকা মিউনিয়ের। সেই তিনিই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে ফিরে পাঁচ মিনিটের মাথায় গোল করেন। দলকে ১-০ গোলের লিড এনে দেন। তার ওই গোলেই এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বেলজিয়াম। এরপর ম্যাচের ৮২ মিনিটে হ্যাজার্ডের গোলে ২-০ গোলের লিড নেয় বেলজিয়াম। ওই গোলেই ২-০ ব্যবধানে জিতে মাঠ ছাড়েন রেড ডেলিভলসরা।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেরে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের যেটা বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে ইংলিশদের কাছে। ওই ম্যাচে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাঁচ পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ইংল্যান্ড দল। তবে বেলজিয়াম দলে নেই তেমন কোন পরিবর্তন ছিল না। শুরুর একাদশে ছিলেন না কেবল ফেলাইনি। এছাড়া ফেরেন মিউনিয়ের। আর এই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিতে বেলজিয়ামের ফাইনালে যেতে না পারার ঘাঁয়ে কোন নবনীর ছোঁয়া তো মিলল না। বরং বেলজিয়ামের আক্ষেপ বাড়লো।

ম্যাচে অবশ্য ইংল্যান্ড দল রবার্তো মাটিনেজের বেলজিয়ামের থেকে পায়ে বেশি বল নিয়ে খেলেছে। ইংলিশদের পায়ে বল ছিল ৫৮ ভাগ। অন্যদিকে বল নিয়ন্ত্রন নিয়ে খেলতে পছন্দ করা বেলজিয়াম পায়ে বল রাখতে পারে ৪২ ভাগ। এছাড়া আক্রমণেও এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। হ্যারি কেন, রাহিম স্টারলিংরা গোলের লক্ষ্যে শট নিয়েছেন ১৩টি। তার মধ্যে ছয়টি শট ছিল লক্ষ্যে। আর বেলজিয়াম চারটি শট লক্ষ্যে রেখে দুটি গোল আদায় করে নিয়েছে। এছাড়া তাদের গোলের বাইরে শট ছিল তিনটি।

বেলজিয়ামের আক্রমণভাগে ছিলেন হ্যাজার্ড, লুকাকু, ব্রুইনিরা। আর ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দিয়েছেন হ্যারি কেন, ট্রিপার-রহিম স্টারলিংরা। সেমিফাইনালের ম্যাচে চোটের কারণে ইংল্যান্ড দলের ট্রিপার, ইয়ং এবং হ্যান্ডারসনের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এদের মধ্যে ট্রিপার তৃতীয় নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামতে পারেন।

এর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড এবং বেলজিয়াম। গ্রুপ সেরা নির্ধারণ হওয়ার ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারায় বেলজিয়াম। তাতে ইংল্যান্ড অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপ দিয়ে সেমিফাইনালে চলে যায়। সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় রাউন্ডে কলম্বিয়া, কোয়ার্টার ফাইনালে সুইডেন এবং সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুূখি হয়। এর মধ্যে ক্রোয়াটদের বিপক্ষে সেমিতে হারে ইংলিশরা। অন্যদিকে বেলজিয়াম দ্বিতীয় রাউন্ডে জাপান এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারায়। কিন্তু সেমিতে আর ফ্রান্স বাধা টপকাতে পারেনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here