মাত্র ক’দিন আগেই থাইল্যান্ডের দুর্গম গুহায় আটকে পড়া ১২ ক্ষুদে ফুটবলারের জন্য উদ্বিগ্ন ছিল গোটা বিশ্ব। প্রাণান্ত চেষ্টার পর তাদের উদ্ধার করা গেছে। কিন্তু এবার বাংলাদেশে খরস্রোতা নদী কেড়ে নিয়েছে পাঁচ ক্ষুদে ফুটবলারের স্বপ্ন। ওরা চেয়েছিল মেসি-রোনালদোদের মতো বড় ফুটবলার হয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস তাদের সেই সুযোগ দেয়নি। কক্সবাজারে মাতামুহুরী নদী থেকে শনিবার স্থানীয়দের সহায়তায় এই ৫ কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে নিখোঁজ দুই ক্ষুদে ফুটবলার সায়ীদ জাওয়াদ অরবি ও তূর্য ভট্টাচার্যের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে সন্ধ্যায় দুই সহোদর আমিনুল হোসাইন এনশাদ ও আফতাব হোসেন মেহরাব এবং মো. ফারহানের মরদেহ মাতামুহুরী নদী থেকে জাল টেনে উদ্ধার করা হয়। চকরিয়া থানার ওসি বকতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী তাদের লাশ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, আর্জেটিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের আয়োজিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছিল এই ৫ কিশোর। তারা পাঁচজনই চকরিয়া গ্রামার স্কুলের ছাত্র। শনিবার বিকাল ৫টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

মাতামুহুরীতে ডুবে মারা যাওয়া ৫ কিশোর ফুটবলার

ওসি বখতিয়ার চৌধুরী জানান, চকরিয়ার গ্রামার স্কুলের ছাত্ররা দুপুরের পর মাতামুহুরী ব্রিজের নিচে বালুচরে আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিল সমর্থকদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে। খেলা শেষে বিকাল ৫টার দিকে ছয় খেলোয়াড় নদীতে গোসল করতে নামলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এই সময় একজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। মৃতদের মধ্যে সহোদর আমিনুল এনশাদ ও আফতাব হোসেন মেহরাব চকরিয়ার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আলহাজ আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যখন সহোদরের মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়, তখন নেমে আসে নীরবতা, নিস্তব্ধতা। বাবা-মা, বোনসহ স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে গেছে। চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের স্টেশনপাড়ায়ও চলছে শোকের মাতম। চারদিকে কান্নার রোল ও আহাজারি। শোকাহত স্বজন ছাড়াও বিলাপ করছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। দুই ভাইকে হারিয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন একমাত্র বোন স্মৃতি। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তাদের বাবা-মা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here