ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে আগামী চার বছরের জন্য বিশ্বসেরার মুকুট পড়েছে ফ্রান্স। দ্বিতীয়বারের মতো সোনার এই ট্রফি জিতে তাই এখন আনন্দে উন্মাতাল গোটা ফ্রান্স। দেশটির রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু করে বড় বড় শহরগুলোতে চলছে উৎসব আর উদযাপন। জাতীয় পতাকা নীল-সাদা-লালের আবাহে দারুণ সাঁজে সেঁজেছে আইফেল টাওয়ার থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা।

উৎসবে সামিল ফরাসিরা বলছে, তারা এখন অপেক্ষা করছেন বিশ্ব জয়ের নায়ক গ্রিজম্যান, পগবা, উমতিতি আর কোচ দাদিয়ের দেশমকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন ও প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড ফিলিপ্পে খেলোয়াড় ও স্টাফদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, তারা দেশে ফিরলে দেওয়া হবে রাজকীয় সংবর্ধনা। এছাড়া বিশ্বকাপ ট্রফিসহ প্যারিসের রাস্তায় হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

প্যারিসের রাস্তায় বিশ্বজয়ের আনন্দ

এর আগে চমকের বিশ্বকাপে ফাইনালের মঞ্চেও আরো একবার চমক দেখেছে সবাই। ফাইনালের মঞ্চে ১৮ মিনিটেই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ডি বক্সের বাইরে গ্রিজম্যানকে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলার। ফ্রি কিক পায় পায় ফ্রান্স। গ্রিজম্যানের নেওয়া সেই ফ্রি কিকে মানজুকিচের মাথা ছুঁয়ে বল জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আত্মঘাতী গোল করলেন মানজুকিচ।

পিছিয়ে পড়ে দমে যায়নি ক্রোয়েশিয়া। ২১ মিনিটে ভিদার শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ২৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে পেরেসিচকে ফাউল করে ফ্রি কিক পায় মদ্রিচ। মদ্রিচের নেওয়া ফ্রি কিক থেকে ভিদার ক্রসে বা-পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ইভান পেরেসিচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন এই ইন্টার মিলান তারকা।

গোল খেয়েও কি বসে থাকার পাত্র ফ্রান্স? ফেবারিটের তকমা লাগানো ফ্রান্স ৩৫ মিনিটে কর্নার থেকে আক্রমণ করলে ইভান পেরেসিচের হাতে বল লাগলেও রেফারি এড়িয়ে যান। কিন্তু ভিএআরের মাধ্যমে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন।

ফাইনালের মঞ্চেও ভিএআর নির্ধারক হয়ে দাড়ালো। স্পট কিক থেকে টুর্নামেন্টে নিজের ৪র্থ গোলটি করে ফ্রান্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অ্যান্তনিও গ্রিজম্যান। বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসে পেরেসিচ দ্বিতীয় ফুটবলার যিনি ম্যাচে গোল করলেন এবং প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দিলেন। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফ্রান্স।

আনন্দে উন্মাতাল গোটা ফ্রান্স

গোল শোধে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। ৪৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার রেবিচের শট রুখে দেন লরিস। ৫৩ মিনিটে গোল ব্যবধান মারার সুযোগ পেয়েছিলেন এমবাপে। কিন্তু দ্রুত গতির এই ফুটবলার ডি বক্সের ভেতর সুবাসিচের গায়ে শট মারেন।

স্রোতের বিপরীতে কাউন্টার এটাক থেকে ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ডান পায়ে শট নেন পগবা কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হলে ফিরতি শটে বা-পায়ে দুর্দান্ত গোল করে ফ্রান্সকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা।

গোল খেয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলে ক্রোয়েশিয়া। এই সুযোগে আরো এক গোল করে বসে এমবাপে। ৬৫ মিনিটে ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে এই বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি করেন এমবাপে। কিংবদন্তী ফুটবলার পেলের পর দ্বিতীয় তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করলেন এই পিএসজি তারকা।

ফ্রান্স জুড়ে এখন শুধু আনন্দ

বিশ্বকাপ গোলরক্ষকদের জন্য অভিশাপ হয়েই রইল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা গোলরক্ষকরা শিশুসুলভ ভুল করলেও বাকি ছিলেন ফ্রান্সের হুগো লরিস। ফাইনালের মঞ্চে তিনিও দৃষ্টিকটু ভুল করে বসেন। ৬৯ মিনিটে ফ্রান্সের ডিফেন্ডার লরিসকে ব্যাক পাস দেন। কিন্তু রক্ষণমুখে থাকা মানজুকিচকে কাটাতে গিয়ে তার পায়ে লেগে গোল খেয়ে বসে ফ্রান্স।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে এক ম্যাচে আত্মঘাতী গোল এবং দলের পক্ষে গোল করলেন মানজুকিচ। ম্যাচের শেষ দিকে গোল শোধের অনেক চেষ্টা করলেও আর তেমন কোন সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। ফলে ১৯৯৮ সালের পর দ্বিতীয়বারের মত বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো ফ্রান্স।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here