সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সোমবার ভোর রাতে হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক মাকাম আহমদ মাহীকে পুলিশে সোপর্দ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

অভিযুক্ত মাহী ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তিনি সিলেট ওসমানী মেডিক্যালের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং নাক, কান ও গলা বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক। আর ভিকটিম কিশোরী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তার অসুস্থ নানির সঙ্গে রাতে হাসপাতালে ছিল। ছাত্রীটি তার পরিবারের সঙ্গে সিলেট মহানগরীতেই থাকে।

ভিকটিমের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন কিশোরীর নানি। রবিবার রাতে সে ছাড়া আর কেউ রোগীর সঙ্গে ছিল না। রাতে ফাইল দেখার কথা বলে চিকিৎসক মাহী একই ফ্লোরে নিজের কক্ষে মেয়েটিকে ডেকে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। সকালে বাবা-মা হাসপাতালে এলে ধর্ষণের ঘটনাটি খুলে বলে সে।

গতকাল সকাল ৮টার দিকে মেয়ের বাবা-মা ওসমানী মেডিকেলের পরিচালকের কাছে চিকিৎসক মাহীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এর পর হাসপাতালের চিকিৎসক, পুলিশ ও কিশোরীর স্বজনদের মধ্যে বৈঠক হয়। বেলা দেড়টা পর্যন্ত তা চলে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই মাহীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার একেএম মাহবুবুল হক বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ওই কিশোরীর স্বজনদের এবং চিকিৎসককে নিয়ে বসি। মেয়ের পক্ষ এবং ওই ইন্টার্নের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মেয়ের পরিবারের আনা অভিযোগ মাহী অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা না হওয়ায় মাহীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিকেলেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন- সব ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ফুটেজ সংগ্রহ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর মেয়েটিকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার গোলাম কাউসার দস্তগীর জানান, চিকিৎসক মাহীকে আটক করা হয়েছে। কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here