ফুটবল বিশ্বে এই মুহূর্তে মনে হয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় আর্জেন্টিনার কোচ হওয়া। কারণ পদটি যে অনেকটা মিউজিক্যাল চেয়ার হয়ে উঠেছে। গত ৪ বছরে যে দলটিতে ৬ জন কোচ পরিবর্তন হয়েছে। তবে যাই হোক না কেনো, হোর্ সাম্পাওলিকে বরখাস্তের পর আগামী বছর কোপা আমেরিকা আর ২০২২ সালের বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আবারো নতুন কোচের সন্ধানে নেমেছে।

এবারও আর্জেন্টিনায় সাম্পাওলি পরবর্তী দায়িত্ব পেতে পারেন এমন অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে একজন রিকার্ডো গার্সিয়া। বলা হচ্ছে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন রিকার্ডো গার্সিয়া। রাশিয়া বিশ্বকাপে পেরুর মতো দলকে পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আছে তার। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে পেরুকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব তিনি পাবেনই। এছাড়া ৬০ বছর বয়সী এই কোচের অভিজ্ঞতাটাও বড় ব্যাপার।

ক্যারিয়ারে তিনি পালমাস, ইন্ডিপেন্ডিয়েন্তে’র মতো ক্লাবের কোচিং করিয়েছেন। এছাড়া জাতীয় দলের হয়ে ৮০’র দশকে পাঁচ বছর ধরে খেলাটাও তার প্রোফাইল ভারী করেছে। তাকে আর্জেন্টিনার যৌক্তিক কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তালিকায় থাকা আরেকজন হলো মার্সেলো গ্যালার্ডো। আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার বিষয়ে তার নামের পাশে ডার্ক হর্স কথাটা যোগ করা হয়েছে। কম বয়সী কোচ হিসেবে আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্ব পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। মোনাকোর হয়ে খেলা এই তারকা কোচিং ক্যারিয়ারে ভালোই করছেন। তবে মেসি-আগুয়েরো যদি খেলে যান তবে তাদের সামলানোর জন্য তার মতো কম বয়সী কাউকে আর্জেন্টিনা বেছে নেবে কিনা বলা মুশকিল। রিভার প্লেট এবং ন্যাশিওনালে অবশ্য তিনি কোচিংটা বেশ করিয়েছেন।

তালিকায় নাম রয়েছে মাতিউস আলমেইদার। তিনি যদি আর্জেন্টিনার কোচ হন তবে অনেকে অবাক হবেন। এখন চাকরিও নেই তার। তবে মেক্সিকোর কোচ হওয়ার জন্য শোনা যাচ্ছে তার নাম। মেক্সিকো কোচ অবশ্য রাশিয়া বিশ্বকাপে ভালোই করেছেন। ব্রাজিলের বিপক্ষে হারার পরে তো আর কোচের দোষ খুঁজতে গেলে হয় না।

তবে দলের পারফর্ম খারাপ হলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো চাকরি যাওয়া মেক্সিকোতেও নিয়ন বলা চলে। বেনফিকা এবং রিভার প্লেটের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা তার নামও কোচের তালিকায় যোগ করছে। তিনি অবশ্যই আর্জেন্টিনা কোচ হিসেবে প্রথম পছন্দ হবেন না।

তালিকায় হাইপ্রোফাইল নাম ডিয়াগো সিমিওনে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কারণ কি? প্রশ্নটা ছুড়ে দিলে উত্তর আসবে আর্জেন্টিনার দুর্বল রক্ষণভাগ। আর আর্জেন্টিনার রক্ষণ যুত করার সমাধান হতে পারেন ডিয়াগো সিমিওনে। অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে তিনি দারুণ কোচিং করাচ্ছেন। বর্তমান বিশ্বের সেরা কোচদের কাতারে রাখা হয় তাকে। আর রক্ষণভাগ সামলানোর মাস্টার বলা চলে তাকে। স্প্যানিশ লিগ থেকে শুরু করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, সিরি আ, লিগ ওয়ানে তাকে কোচ হিসেবে পেতে চায় অনেক ক্লাব।

কিন্তু ইউরোপিয়ান ক্লাবের চকচকে জগৎ ছেড়ে জাতীয় দলের কোচিং করানোর ঝুঁকি ডিয়াগো নেবেন না বলেই মনে করেন অনেকে। সিমিওনে যদি আর্জেন্টিনার কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন হয়তো খুব একটা চিন্তা করবে না তাকে নিয়োগ দিয়ে দেবে। তাকে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে পাওয়া এখনই অসম্ভব বলে মনে করছেন অনেকে।

আরেকজন হলেন মারিও পেচেত্তিনো। টনেটহ্যামের কোচ তিনি। ইংলিশ লিগে ম্যানইউ, ম্যানসিটি, চেলসি, লিভারপুল কিংবা আর্সেনালের বাইরে টটেনহ্যামকে আলাদা করে চিনিয়েছেন পচেত্তিনো। তার দল শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ পারফর্ম করেছে। রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসজি, চেলসির কোচ হতে পারেন বলেও গুঞ্জন শোনা গেছে এর আগে। এবার গুঞ্জন আর্জেন্টিনা দলের কোচিং করানোর।

৪৬ বছর বয়সী এই কোচ পারেন আর্জেন্টিনা দলকে আবার নতুন করে তৈরি করে নিতে। কিন্তু ক্লাব ছেড়ে তাদের জাতীয় দলের দায়িত্বে দেখা খুব সহজ ব্যাপার হবে না। কারণ তারা প্রতিদিন দল সামলানোর ব্যস্ত সূচিতে থাকতে চান। বছরে দু’-চারবারের জন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করে তাদের পোষাবে কিনা তা নিয়ে কথা আছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here