ছয় মাস আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের বারদী ইউনিয়নের দলরদী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আল আমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কাবিননামা হয় জান্নাতুল ফেরদৌসী বন্যার (১৯)। কোরবানীর ঈদের পর তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে সম্প্রতি রাজশাহীর পিকআপচালক রফিকুল ইসলাম রকির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে বন্যার।

গত ১৬ জুন (ঈদের দিন) বিকেলে প্রেমের টানে বন্যা রাজশাহীর প্রেমিক রকির কাছে স্বর্ণলংকার নিয়ে চলে যায়। ঘটনার দুই দিন পর ১৮ জুন তরুণীর মা সাইদা খানম বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বন্যা অবশ্য তার প্রেমিক রকির মোবাইল থেকে ফোন করে মাকে জানায়, সে ভালো আছে।

পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সোনারগাঁও থানা পুলিশের এসআই তানভীর আহম্মেদের নেতৃত্বে এএসআই হাবিবুর রহমান হাবিবসহ একটি দল গত রোববার বন্যাকে উদ্ধারের জন্য রাজশাহীতে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ছিলেন তরুণীর মামা সিরাজুল ইসলাম (৫৫), খালাতো ভাই মো. ফারুক (৪২)। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রেমিক রকি পালিয়ে যায়।

তবে ঘটনাস্থল থেকে বন্যাকে উদ্ধার করা হয়। ফেরার পথে টাঙ্গাইলের কুমিদীনি হাসপাতাল এলাকায় মাইক্রোবাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এতে বন্যা, ভাই ফারুক ও মামা সিরাজুল নিহত হন। আর পুলিশের এসআই তানভীর আহম্মেদ, এএসআই হাবিবুর রহমান, কনস্টেবল আজহারুল ইসলাম ও গাড়িচালক আক্তার হোসেন আহত হন। তাদের প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারীতে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

নিহত ফারুকের ছেলে অনিক বলেন, সোমবার বাবা আমাদের ফোন করে জানায় বন্যা খালাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। তাকে নিয়ে থানায় নিয়ে পথে আছেন। সন্ধ্যার পরই রওনা দেবেন। মঙ্গলবার সকালে শুনি বাবা নেই।

নিহত সিরাজুল ইসলামের ভাতিজা আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর থেকে চাচী ও আমার চাচাতো ভাই-বোন বার বার কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছেন। তাদের কান্না কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না। গতকালও চাচার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। চাচা নেই এটা মানা খুব কষ্ট হচ্ছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মোরশেদ আলম জানান, নিহত বন্যার মা বাদি হয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পরে মোবাইলের সূত্র ধরে গত রোববার আমরা একটি পুলিশের টিম বন্যাকে উদ্ধারের জন্য রাজশাহী পাঠাই।

পরে তাকে উদ্ধার করে ফেরার পথে টাঙ্গাইলের কুমুদিনি এলাকায় রাস্তার স্প্রিড বেকারে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এতে তিনজন নিহত হন। এ সময় পুলিশের তিন সদস্য ও গাড়িচালক আহত হয়।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার যাত্রীবাড়ী এলাকার মৃত আমির হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী বন্যাকে নিয়ে তার মা সাইদা খানম সোনারগাঁওয়ের হাড়িয়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় মামার বাড়িতে থাকতেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here