উড়ন্ত কাঠবিড়ালি। বাংলাদেশের অতিদুর্লভ এই প্রাণীটির বাস সাধারণত গহীনবনে। তাই লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকে। এদের আয়ুষ্কাল ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত হলেও বিপন্ন বন্য পরিবেশ ও খাদ্য সংকটের কারণে গড় আয়ু নেমে এসেছে অর্ধেকে। সম্প্রতি অসুস্থ অবস্থায় এমনই একটি উড়ন্ত কাঠবিড়ালিকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়। এখন সেটিকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ভাড়াউড়া চা বাগানের রাস্তার পাশে সম্প্রতি একটি উড়ন্ত কাঠবিড়ালিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় যুবক কাজল হাজরা বাড়িতে নিয়ে আসে। কয়েকদিন নিজের কাছে রেখে কিছুটা সুস্থ করে গতকাল সকালে শ্রীমঙ্গলস্থ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে কাছে তুলে দেন।

কাজল হাজরা বলেন, ‘পেশায় ফটোগ্রাফার হওয়ায় প্রায়ই ক্যামেরা নিয়ে বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই। গত শনিবার (১৪ জুলাই) ছবি তুলতে গিয়ে রাস্তার পাশের চা বাগানে এই প্রাণীটি চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখি কাঠবিড়ালির বাচ্চা। স্পর্শ করতেই বোঝা যায় সে খুবই অসুস্থ। কাঠবিড়ালিটিকে বাড়িতে এনে কয়েকদিন গরুর দুধ, পানি, ফল খাইয়ে কিছুটা সুস্থ করে বুধবার সকালে বাংলাশে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে দিয়ে এসেছি।’

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব বলেন, ‘কাজল হাজরা আমাদের কাছে যে প্রাণীটি দিয়ে গেছেন, তার নাম বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি। এটির বয়স অনেক কম এবং অসুস্থ। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো প্রাণীটিকে সুস্থ করে তার আবাসস্থলে ফিরিয়ে দেওয়ার।’

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সিতেশ রঞ্জন দেব জানান, বিচিত্ররঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালীকে কেউ কেউ ‘উড়ুক্কু কাঠবিড়ালি’ বলে থাকেন। এটি একটি বিরল প্রাণী। ইংরেজি নাম পার্টিকালার্ড ফাইং স্কুইরাল এবং বৈজ্ঞানিক নাম হাইলোপেটিস অ্যালবোনিগার (Hylopetes Alboniger)।

উড়ন্ত কাঠবিড়ালি মাথাসহ দেহ এবং লেজের দৈর্ঘ্য সমান, ২৫-৩০ সেন্টিমিটার করে হয়ে থাকে। কান তুলনামূলকভাবে বড়, এদের চ্যাপ্টা লেজ স্পষ্ট ডিস্টিকিউয়াস, দেহের পার্শ্বে কালচে-বাদামি এবং নিচ সাদা। লেজ ধূসর থেকে ধূসর বাদামি, গোড়া ফ্যাকাশে, আগা গাঢ় রঙের। পা গাঢ় বাদামি। অপ্রাপ্তবয়স্কে পিঠ কালো ও দেহতল সাদা।

এই কাঠবিড়ালি নিশাচর ও বৃক্ষবাসী প্রাণী। মাটিতে তেমন একটা নামে না। গাছ থেকে গাছে উড়ে বেড়ায়। এক গাছ থেকে অন্য গাছে দেড়শ থেকে দুইশ ফুট দূরত্বে লাফাতে পারে। ওড়ার সময় পেছনের লেজকে এরা লাগাম হিসেবে ব্যবহার করে। গাছের শিকর, কুড়ি, পাতা ইত্যাদি খেয়ে বাঁচে। সিলেট ও চট্টগ্রামের গহীন বনাঞ্চলে এদের দেখা যায়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here