চাঞ্চল্যকর প্রবীর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে এলো ২১ মাস আগে অপহরণ ও গুম হওয়া স্বপন কুমুর সাহার শেষ পরিনতির তথ্য। তাকে অপহরণ করা হয়নি বরং ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জের ধরে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর রাতে পিন্টু দেবনাথের বাসায় হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া হয়। মাসদাইর এলাকার রত্না রানী চক্রবর্তী ও শহরের আমলাপাড়া এলাকার আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুনকে গ্রেপ্তারের পরই এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পিন্টুর পরকীয়া প্রেমিকা রত্নার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে আরও তথ্য জানতে প্রবীর হত্যার অন্যতম আসামি পিন্টু দেবনাথ ও তার সহযোগী বাপন ভৌমিককে এবার স্বপন কুমুর সাহা অপহরণ ও গুমের মামলায় রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি পুলিশ। বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিক ইমামের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাফিজুল ইসলাম ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পিন্টু ও বাপনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন পাঁচ দিন করে।

নিখোঁজ স্বপনের ভাই অজিত কুমার সাহা গত ১৬ জুন সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে আসামি করা হয়- পিন্টু দেনাথ, বাপন ভৌমিক, রত্না রানী চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আলম মামুন মোল্লাকে। মামলাটি দায়েরের পরপরই তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে ন্যান্ত করা হয়। এজাহারে অজিত জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরা কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ। গত ৯ জুলাই প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি তাদের সন্দেহ বাড়ে।

১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগী বাপন ভৌমিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। পিন্টু দেবনাথের বান্ধবী রত্না রানী চক্রবর্তীরও সন্ধান দেয় বাপন। পরে মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করে জানা যায়, স্বপনের মোবাইল ব্যবহার করছে রত্না। ১৫ জুলাই রাতে আটকের পর এই নারীর কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় মামুন মোল্লাকেও। এর পর তাদের তিন দিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এতে স্বপনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় রত্না।

রত্না ছিল মূলত স্বপনের পরকীয়া প্রেমিকা। কয়েক বছর আগে ঘনিষ্ট বন্ধু পিন্টুর সঙ্গে এই নারীকে স্বপনই পরিচয় করিয়ে দেন। কিছুদিন না যেতেই রত্নার সঙ্গে পিন্টুর সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি টের পেয়ে যান স্বপন। এ নিয়ে ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। রত্না চলে যায় পিন্টু দেবনাথের কব্জায়।

কালীবাজার স্বর্ণপট্টি এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, পিন্টু ছিল প্রচণ্ড নারী আসক্ত। এ কারণে সে বিয়েও করেনি। আমলাপাড়া ও কালীবাজার স্বর্ণপট্টিতে সে লেডি কিলার হিসেবেই পরিচিত ছিল।

সাইলেন্ট কিলার পিন্টু দেবনাথ এখন নারায়ণগঞ্জে টক অফ দ্য টাউন। দুজন জলজ্যান্ত মানুষকে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ফিল্মি স্টাইলে হত্যা করে সে। স্বপনের লাশ ব্যাগে ভরে ফেলে দেওয়া হয় শীতলক্ষ্যায় আর প্রবীরের ৭ টুকরা লাশ রেখে দেয় নিজ বাড়ির সেফটিক ট্যাংকে।

দুই বন্ধু প্রবীর ও স্বপনকে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হওয়ার পর স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের চোখ তো কপালে। তাদের কথা, এমন একজন সাইলেন্ট কিলারকে নিয়ে এতোদিন ধরে একত্রে ব্যবসা করছি, তা টেরই পাইনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here