রাজধানীবাসী বৃহস্পতিবার বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন অনুভব করলো। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ শমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রাবণের শুরুতে এসে রাজধানীতে এমন আবহাওয়াকে অস্বাভাবিক বলেই মন্তব্য করেছেন পরিবেশবিদরা। এ ছাড়া আগামী সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে বড় নিম্নচাপের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, ‘পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সরকার সংশ্লিষ্টরা নানা কথা বললেও তা বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আমরা এমন একটা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হচ্ছি না, যা আমাদের জীবনের জন্য। আজ বৈশ্বিক ঊষ্ণতার শিকার বাংলাদেশের মানুষ। এর পরিণতি ভয়াবহ। দুঃখজনক হলো এটাই যে, আমরা জীবন নিয়ে খেলছি।’

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান খান বলেন, ‘আজ ঢাকায় বছরের সবচেয়ে গরম দিন গেল। বাতাসে জলীয়বাস্পের পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রার তুলনায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।’

২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা পাঁচ দশকের সর্বোচ্চ। ১৯৬০ সালের পর ওটাই ছিল ঢাকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। ১৯৬০ সালে তাপমাত্রা উঠেছিল ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ভ্যাপসা গরম ও নিম্নচাপের সম্ভাবনা : দেশে আরও কয়েকদিন ভ্যাপসা গরম থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দিনের বেলা তাপমাত্রা মেঘের বাধার কারণে ওপরে উঠতে পারছে না। আর তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকলেও বাতাসে জলীয়বাষ্প খুব বেশি থাকছে। তাই অল্পতেই শরীর ঘেমে যায়। এ ঘাম না শুকানোর কারণেও গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে, অস্বস্তি বাড়ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আগামী কয়েকদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। আকাশে মেঘ থাকবে। এ কারণে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে। এ অবস্থা চার থেকে পাঁচদিন চলতে পারে, সঙ্গে আছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও। তবে বৃষ্টির পর গরম বাড়ার শঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি আদ্রতা ওঠানামা করবে। এ ছাড়া গাছপালা কম থাকায় শহরাঞ্চলে ভ্যাপসা গরমের মাত্রা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে দেখা মিলতে পারে নিম্নচাপের।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here