ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজে চরম বিপর্যয়ের রেশ থাকতেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যে কথা শোনালেন, তা রীতিমত আঁতকে উঠার মতো। তিনি বলছেন, দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার টেস্ট খেলতে চান না। এর মধ্যে রয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন। তাই সাদা পোশাকে ভালো করতে হলে আলাদা একটা দল গড়া ছাড়া উপায় দেখছেন না পাপন। গতকাল সংবাদমাধ্যমকে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন।

নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদার সংস্করণের প্রতি বৈশ্বিক অনাগ্রহ এখন প্রকট। ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়া ছাড়া কাউকে টেস্ট খেলায় আগ্রহী দেখি না। দর্শক কম হয় বলে ব্রডকাস্টাররাও এতে আগ্রহী না। আমাদের দেশেও বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার আছে, তারাও টেস্ট খেলতে চাচ্ছে না। যেমন সাকিব, মোস্তাফিজ টেস্ট খেলতে চায় না। বলে না যে খেলব না, কিন্তু চায় এড়িয়ে যেতে। তাদের মতো অনেকেই টেস্ট খেলতে চায় না, টেস্ট অনেক কঠিন।’

এদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকালীন রুবেল হোসেনের টেস্ট খেলতে অনাগ্রহের কথা কয়েকটি গণমাধ্যমে আসে। কমপক্ষে ১০ টেস্ট খেলেছেন এমন বোলারদের মধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে বোলিং গড়টা এই রুবেলেরই। তার কাছে নাকি টেস্ট ক্রিকেট এখন ভীষণ কঠিন। পাপন বলেন, ‘রুবেল অনেক অভিজ্ঞ। অনেকদিন সার্ভিস দিয়ে আসছে। হতে পারে ওর জন্য টেস্ট কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তরুণদের থেকে নতুন প্লেয়ার নিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া উপায়ও নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখানে মানসিকতা না, টেস্টের জন্য আমাদের নতুন দল করতে হবে। চার বছর আগে থেকে বলে আসছি, টেস্টে একটা আলাদা সেটআপ দরকার। টি-টোয়েন্টিতেও। হয়ত দুই-তিনজন কমন মুখ থাকবে। সবারই কিছু টেস্টের জন্য বিশেষজ্ঞ প্লেয়ার আছে। আমাদের কিন্তু সেভাবে নেই। আমরা খালি মুমিনুলকে রেখেছি টেস্টের জন্য। শুধু এটা করলে তো হবে না। আমাদের এরকম পাঁচ-ছয়জন তৈরি করতে হবে।’

তবে হুট করেই দলে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনাও দেখছেন না বিসিবি প্রধান। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বললেন, ‘যে স্কোয়াড, তামিমের সঙ্গে একজন ওপেনার। দুইজন চলে গেল। তিনটা পেসার আসবে। তারপর একটা তো স্পিনার নিবেন। ছয়জন চলে গেল। তারপর মুশফিক, রিয়াদ, সাকিবকে বাদ দিতে পারবেন না। জায়গা থাকে দুটা, তিনে কে আসবে? মুমিনুল আছে, মুমিনুলকে একটা সিরিজের জন্য বাদ দিতে পারবেন না। রইল বাকি সাতে। এখানে কতজন আছে? মোসাদ্দেক আছে, সাব্বির আছে, মিরাজ আছে। এখন এদের কাউকে যদি বাদ দেওয়া হয় তাহলে মানুষ বলবেÑ এটা কী করল। আবার সিনিয়র কাউকে যদি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে তো কথাই নেই। কাজেই ক্রিকেটের স্বার্থে আমাদের এগুলো সহ্য করে নিতেই হবে, যদি ভবিষ্যৎ ভালো চাই। আমাদের নতুন নতুন তামিম, সাকিব, রিয়াদ দরকার। ওরা আছে থাকবে, কিন্তু যখন থাকবে না তখন আমাদের কী হবে? সেজন্য তরুণদের তৈরি করতে হবে।’

সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ২২১ রানে হারের পর জ্যামাইকায় পরের টেস্টে হেরেছে ১৬৬ রানে। অ্যান্টিগায় প্রথম ইনিংসে মাত্র ৪৩ রানে গুটিয়ে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে কম রানে অলআউটের নজির গড়েছে টাইগাররা। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এটাই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বাজে সিরিজ। এই বাজে পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজতে গিয়েই মুখ খুললেন বোর্ড প্রধান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here