অনাস্থা এনে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আটকাতে পারলো না বিরোধীরা। প্রত্যাশিতভাবেই লোকসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হল এনডিএ সরকার। তাই আপাতত ২০১৯ পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই সরকার চালাতে পারবেন মোদি। অনাস্থা প্রস্তাব পাস করানোর জন্য বিরোধীদের প্রয়োজন ছিল ২৬৪ সাংসদের সমর্থনের, কিন্তু এর পক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ১২৬টি। অন্যদিকে সরকারপক্ষ ৩২৫টি ভোট পেয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টিডিপির আনা অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০ জুলাইকে দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে অভিহিত করেছেন। এদিন তার সরকার অনাস্থা ভোটের পরীক্ষা দিয়েছে। যদিও তা উতরে গেছে খুব সহজেই। দেশটির লোকসভা ৫৪৫ আসনবিশিষ্ট। সরকার গঠনে দরকার হয় অন্তত ২৭৩ আসন। বিজেপির জোটে রয়েছেন ৩৭৫ সংসদ সদস্য। এর মধ্যে গেরুয়া শিবিরেরই ২৭১ সাংসদ। অবশ্য বিজেডি দল ওয়াকআউট করায় এবং শিব সেনা ভোটদানে বিরত থাকায় লড়াই হয় মোট ৪৯৫ আসনের বিপরীতে। এর মধ্যে মোদি সরকারের দরকার ছিল ২৪৯ এমপির সমর্থন।

১৫ বছরের মধ্যে এ নিয়ে দু-দুবার লোকসভায় অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি বিজেপি। ২০০৩ সালের অনাস্থা ভোটেও তারা টিকে যায়; কারণ সেবারও তাদের পর্যাপ্ত আসন ছিল লোকসভায়। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এর আগের অনাস্থা ভোট ডেকেছিল সোনিয়া গান্ধীর কংগ্রেস। এবার তাদের সঙ্গে রয়েছে তেলুগু দেসাম পার্টি ও শরদ পাওয়ারের এনসিপি।

এবারের অনাস্থা ভোটও ধোপে টিকবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। লোকসভার সংসদবিয়ষক মন্ত্রী অনন্ত কুমার বলেন, ‘মোদি সরকারের ওপর হয়তো বিরোধীদের আস্থা নেই। তবে আমরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই, দেশের জনগণের ঠিকই পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ শেষ পর্যন্ত তার কথাই ফললো।

এদিকে অনাস্থা প্রস্তাবে ব্যর্থ হলেও এতে রাজনৈতিক ফায়দাই দেখছে বিরোধীরা। কারণ, আস্থা ভোটের মধ্যে দিয়ে কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেল কোন দল বিরোধী শিবিরে রয়েছে আর কোন দল এনডিএর দিকে। দেশটির ২৯ রাজ্যের মধ্যে ২২টিতেই ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি বা সমর্থিত জোট। তাই ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে মহাজোট গঠনের কথা ভাবছে বিরোধী দলগুলো।

ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এ নিয়ে ২৭ বার অনাস্থা ভোটের আয়োজন হলো। কংগ্রেসের শাসনকালেই ২৩ বার অনাস্থা প্রস্তাব আনার রেকর্ড রয়েছে বিরোধীদের। লালবাহাদুর শাস্ত্রী, পিভি নরসিংহ রাও এবং মোরারজি দেশাই প্রত্যেকের শাসনকালেই তিনবার করে মোট নয়বার এমনটা হয়। অটল বিহারী বাজপেয়ির বিরুদ্ধে মোট দুবার অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল।

প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয় ১৯৬৩ সালের আগস্টে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমলে জেবি কৃপালনী এনেছিলেন। সেবার সব মিলিয়ে চারদিন ধরে মোট ২১ ঘণ্টা আলোচনা হয় এর ওপর। আর এবার ১২ ঘণ্টারও বেশি তীব্র বাদানুবাদের পর শেষবেলায় ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত নেন স্পিকার সুমিত্রা মহাজন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here