কী অভাবনীয় কাণ্ড, নজিরবিহীন ঘটনা! বাংলাদেশে তো দূরের কথা বিশ্ব রাজনীতিতে এমন ঘটনা বিরল। শুক্রবার ভারতের লোকসভায় প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধী ধুয়ে দিলেন বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সে নিয়ে কী হট্টগোল। তুমুল বিবাদ, কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। এই শোরগোলের মধ্যেই বক্তৃতা চালিয়ে গেলেন রাহুল। বার বার আঘাত করলেন মোদি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে। লোকসভার পরিবেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে দুপক্ষকে থামাতে না পেরে স্পিকার সুমিত্রা মহাজন স্বল্পসময়ের জন্য বাদল অধিবেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। কিন্তু তারপরই ঘটে সে চোখ জুড়ানো ঘটনাটি।

‘মেরেছি কলসির কনা, তাই বলে কি প্রেম দেবো না’- নিজের আসন ছেড়ে নাটকীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রীর দিকে এগিয়ে যান রাহুল! নরেন্দ্র মোদির দিকে হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। পর মুহূর্তেই একেবারে নুয়ে মোদির বুকে আছড়ে পড়েন। ঘটনার হতবিহ্বলতায় পুরো কক্ষ বিমোহিত। হতচকিত মোদি নিজেও! এতোদিনের রাজনীতি করে তিনি শুধুই দর্শক। রাহুল ফিরে যাওয়ার সময় মোদি তাকে কাছে ডেকে পিঠ চাপড়ে কিছু একটা বললেন! হয়তো বললেন- ‘আমার যুগ যেখানে শেষ তোমার সেখানে শুরু, এগিয়ে যাও। তোমার হাতেই নিরাপদ ভারত মাতা!’ রাহুল ফিরে গেলেন নিজের আসনে। কিন্তু জয় করে নিলেন সবার হৃদয়।

আজ দুপুরে বাসায় বসে এনডিটিভিতে লাইভ দেখছিলাম লোকসভার অধিবেশন। আর ভাবছিলাম দিনে দিনে কিভাবে পরিপক্ক নেতা হয়ে উঠছেন তিনি। কী করে ভবিষ্যতকে তার দিকে টেনে আনছেন রাহুল! আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদেরও তাদের কাছ থেকে শেখার আছে।

কাণ্ড আরেকটা করেছেন- সংসদে রাহুল চোখও মেরেছেন। আর তাই ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুরু হয়েছে তর্ক- কার চোখ মারা বেশি আকর্ষণীয়, রাহুল নাকি প্রিয়া? চোখ মেরে নাকি প্রিয়া প্রকাশের চেয়েও ভাইরাল হয়েছে তার!

এদিকে ১২ ঘণ্টারও বেশি তীব্র বাদানুবাদে ক্রোধ, হাসি-তামাশা যাই হোক না কেন; শেষ হাসিটা হেসেছেন মোদিই। অনাস্থা এনে তার সরকারকে হটাতে পারলো না বিরোধীরা। প্রত্যাশিতভাবেই লোকসভায় আস্থা ভোটে জয়ী হল এনডিএ সরকার। তাই আপাতত ২০১৯ পর্যন্ত বহাল তবিয়তেই সরকার চালাতে পারবেন মোদি। অনাস্থা প্রস্তাব পাস করানোর জন্য বিরোধীদের প্রয়োজন ছিল ২৬৪ সাংসদের সমর্থনের, কিন্তু এর পক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ১২৬টি। অন্যদিকে সরকারপক্ষ ৩২৫টি ভোট পেয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই টিডিপির আনা অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০ জুলাইকে দেশটির সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে অভিহিত করেছেন। এদিন তার সরকার অনাস্থা ভোটের পরীক্ষা দিয়েছে। যদিও তা উতরে গেছে খুব সহজেই। দেশটির লোকসভা ৫৪৫ আসনবিশিষ্ট। সরকার গঠনে দরকার হয় অন্তত ২৭৩ আসন। বিজেপির জোটে রয়েছেন ৩৭৫ সংসদ সদস্য। এর মধ্যে গেরুয়া শিবিরেরই ২৭১ সাংসদ। অবশ্য বিজেডি দল ওয়াকআউট করায় এবং শিব সেনা ভোটদানে বিরত থাকায় লড়াই হয় মোট ৪৯৫ আসনের বিপরীতে। এর মধ্যে মোদি সরকারের দরকার ছিল ২৪৯ এমপির সমর্থন।

১৫ বছরের মধ্যে এ নিয়ে দু-দুবার লোকসভায় অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি বিজেপি। ২০০৩ সালের অনাস্থা ভোটেও তারা টিকে যায়; কারণ সেবারও তাদের পর্যাপ্ত আসন ছিল লোকসভায়। বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এর আগের অনাস্থা ভোট ডেকেছিল সোনিয়া গান্ধীর কংগ্রেস। এবার তাদের সঙ্গে রয়েছে তেলুগু দেসাম পার্টি ও শরদ পাওয়ারের এনসিপি।

এবারের অনাস্থা ভোটও ধোপে টিকবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। লোকসভার সংসদবিয়ষক মন্ত্রী অনন্ত কুমার বলেন, ‘মোদি সরকারের ওপর হয়তো বিরোধীদের আস্থা নেই। তবে আমরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই, দেশের জনগণের ঠিকই পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ শেষ পর্যন্ত তার কথাই ফললো।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here