গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে খুনের পরিকল্পনা করেছিল জেএমবি জঙ্গিরা। এ জন্য জঙ্গিরা তার অবস্থান ও তিনি কোথায় কোথায় যান তা রেকিও করে। সম্প্রতি এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি গঠিত গণজাগরণ মঞ্চের কর্মকাণ্ডের ফলে ডা. ইমরান এইচ সরকার জেএমবি ও উগ্র মৌলবাদীদের টার্গেট হয়ে আছেন। জঙ্গিরা যে কোনো সময় তার উপর হামলা চালাতে পারে। সম্প্রতি গোপন সূত্রে জানা যায়, পুরনো জেএমবি গ্রুপের শীর্ষ নেতা তৌকির ওরফে তৌকে ওরফে গোপাল রাজশাহী অঞ্চলের পুরনো জেএমবির ইসাবা প্রধান বুলবুল ওরফে সোহাগকে জানায়, ইমরান এইচ সরকারকে রেকি করা হয়েছে’। এই বার্তায় প্রতীয়মান হয় যে তারা ডা. ইমরান এইচ সরকারের প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করছে ও সে ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় কার্যকরে গণজাগরণ মঞ্চের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও রায় কার্যকরে ওই সময়ে গণমানুষের মধ্যে মানবতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে ঐকমত্য তৈরিতে ভূমিকা রাখে গণজাগরণ মঞ্চ। একপর্যায়ে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারের অনুসারী গণজাগরণ মঞ্চের কয়েকজন কর্মী তাদের ব্লগে ইসলাম ধর্ম ও রাসুল (সা.)কে নিয়ে কটূক্তি করায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ক্ষতিগ্রস্ত জামায়াতে ইসলামীসহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএসবি ও উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলো ইমরান এইচ সরকারের প্রতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়।

ওই প্রতিবেদনে তার নিরাপত্তা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থা এই হুমকির কথা ইমরান এইচ সরকারকেও জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই গত মে মাসে একটি গোয়েন্দা সংস্থা পুলিশের কাছে ওই রিপোর্টটি হস্তান্তর করে। তবে, বর্তমানে ব্যক্তিগতভাবে ইমরান এইচ সরকার কোনও নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। পুলিশের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাকে ধানমন্ডি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে তাকে সার্বক্ষণিক কোনও নিরাপত্তারক্ষী বা পুলিশ সদস্য দেওয়া হয় না।

তবে এই হুমকিতে ভীত নন উল্লেখ করে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাকে এ রকম একটি রিপোর্টের বিষয়ে বলা হয়েছে। তবে এরপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেভাবে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তারা যেভাবে রিপোর্টের কথা বলে কিন্তু সেভাবে দৃশ্যমান নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে না। এসব ঘটনায় আমি আরও শঙ্কিত হই। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে তাদের জানাতে। আমাদের কার্যক্রম যেহেতু শাহবাগে বেশি থাকে, সেখানে কোনও প্রোগ্রাম থাকলে আমি ওই থানার পুলিশকে বিষয়টি জানাই ‘

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here