গায়ানায় প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তামিম অপরাজিত ১৩০ রানে। তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি সাকিব (৯৭)। তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২০৭ রান ভেঙে দিল আগের রেকর্ড। ১১ বলে মুশফিকের ৩০ রানের খন্ড টর্নেডো ইনিংস।

৪ উইকেটে টাইগারদের সংগ্রহ ২৭৯ রান। জবাবে ওয়েস্টইন্ডিজ করতে পারল ৯ উইকেটে ২৩১ রান। বল হাতে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিলেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি। মুস্তাফিজ দুটি, মিরাজ ও রুবেল নিলেন একটি করে উইকেট। ম্যাচ সেরা তামিম ইকবাল। তবে দলকে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে আনার জন্য ম্যাচের আসল নায়ক তো মাশরাফি বিন মুর্তজাই।

যার এক কথায় দল উজ্জীবিত হয়েছিল পুরোদমে। কী সেই মাশরাফির মন্ত্র, যাতে বদলে গেল সব চিত্র? মাঠে নামার আগে সতীর্থদের মাশরাফি বলেছিলেন, ‘হৃদয় উজার করে খেল দেশের জন্য।’ ব্যস তাতেই যেন ভোজবাজির মতো সব পাল্টে যায় চিত্র। ওয়ানডে সিরিজের শুরুটা হয় মনের মতোন।

ম্যাচ শেষে ড্যানি মরিসন মাশরাফির কাছে জানতে চান লকে উজ্জ্বীবিত করার রহস্য। তবে মাশরাফি এটিকে বিশেষ কিছু বলতে চাইলেন না। তারপরও যা বললেন, তা হলো, ‘বিশেষ কিছু বলিনি। ব্রিফে বলেছি, হৃদয় উজাড় করে খেলতে, দেশের জন্য খেলতে। যা হয়েছে, তা তো হয়েই গেছে (টেস্ট সিরিজে)। এটা নতুন সিরিজ। শুরুটা ভালো করতে পারলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ (পরশু) ঠিক সেটাই হয়েছে। আশা করি এই পারফরম্যান্স আমরা ধরে রাখতে পারব।’

২০০৭ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এই ওয়েস্টইন্ডিজের মাটিতে সুপার এইটের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তিকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই স্মৃতি রোমন্থন করলেন মাশরাফি, ‘২০০৭ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় এখনও মনে আছে। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলছি। এখানকার উইকেট আমাদের ধরনের সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়। ব্যাটিং আজ শুরুতে চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু তামিম ও সাকিব দারুণ ব্যাট করেছে। সুরটা বেঁধে দিয়েছে। শেষে মুশির ছোট্ট ইনিংসটি ছিল অসাধারণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতাম, শুরুতে ভালো বোলিং করলে এখানে ২৮০ রান তাড়া করা কঠিন। আমাদের চাওয়া ছিল গেইল ও লুইসকে দ্রুত ফেরানো। সেটি হয়েছে। এরপর আমরা চাপটা ধরে রেখেছি।’

১০ ওভারে রান দিয়েছেন ৩৭। মেডেন একটি। উইকেট সর্বোচ্চ ৪টি। উইকেটগুলোও গুরুত্বপূর্ণ, লুইস, হোল্ডার, রাসেল ও নার্স। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগে অনুশীলনটা ভালো মতো হয়নি তার। তার পেছনে কারণ ছিল স্ত্রীর অসুস্থতা। অনুশীলনের ঘাটতি ছিল বলেই হয়ত পরের স্পেলে বল করেছেন শর্ট রান আপে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আগে শর্ট রান আপে অনেকবার বোলিং করলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করেননি খুব একটা। এবার সেখানেও সফল। নিজের পারফরম্যান্সও স্বস্তি দিয়েছে অধিনায়ককে, ‘গত ২-৩ মাসে সেভাবে বোলিং করতে পারিনি। লম্বা রান আপে অনুশীলনও সেভাবে করতে পারিনি। এমন সময় আসতেই পারে। ম্যাচে কাজটা এমনিতেও সবসময় কঠিন। তবে আমি মাঠে উপভোগ করেছি।’

আগামী ২৬ জুলাই একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। ২৮ জুলাই তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। প্রথম ম্যাচের জয়ে তাতিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। টাইগারদের লক্ষ্য এখন সিরিজ জয়। সে জন্য বাকি দুই ম্যাচের মধ্যে জিততে হবে মাত্র একটিতে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here