আন্তর্জাতিক ফুটবলকে হঠাৎই বিদায় বলে দিয়েছেন জার্মানির তারকা মিডফিল্ডার মেসুত ওজিল। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ২৯ বছর বয়সী ওজিল জানিয়েছেন, জার্মানির হয়ে আর খেলতে চান না। তবে বয়স বা ফর্মের কারণে নয়, বিদায়বেলায় বর্ণবাদ এবং সম্মানহানির বিষয়টি কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

যদিও অনেকেই বলছেন, মুসলমান হওয়ার কারণেই ওজিল জার্মানিতে এমন বর্ণবাদের শিকার। অথচ ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ে তিনি অসামাণ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। ওজিল জানান, রাশিয়ার আসরে দলের ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে টুইটারেই রেবেকা সোহানা নামে এক নারী মন্তব্য করেন,‘বিদায় প্রিয় ওজিল, মুসলমান হওয়াই ছিল তোমার একমাত্র দোষ।’ সুলেমান শেখ নামে আরেকজন লেখেন, ‘দরকার নেই জার্মানির। তুমি তুরস্কে চলে এসো, হৃদয় দিয়ে আগলে রাখবো।’

যদিও জার্মানি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) ওয়েবসাইট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবশ্য ওজিলের এই অবসরের বিষয়ে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে ওজিল তার এই সরে যাওয়ার জন্য ডিএফবির আচরণকেই দায়ী করেছেন।

বিতর্কের সূচনা, গত মে মাসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে ওজিল দেখা করার পর। লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে এরদোয়ানের সঙ্গে দেখা করার সময় তার সঙ্গে ছিলেন সতীর্থ ইলকে গুনদোগানও। দু’জনই তুরস্কের বংশোদ্ভূত। সেদিক থেকে হয়তো এই বিষয়টিকে খুব একটা খারাপ মনে করেননি ওজিল। তবে এটা ভালোভাবে নেয়নি জার্মানি এবং দেশের সমর্থকরা। মাঠে এজন্য অনেকবারই দুয়ো শুনতে হয়েছে এই মিডফিল্ডারকে। টেলিফোনে শুনতে হয়েছে হুমকিও।

এ বিষয়ে ওজিল টুইটারে বলেন, আমি তুরস্ক বংশোদ্ভূত, তাই তুরস্কের প্রতি আমার ভালোবাসা রয়েছে। আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছেন, আমরা যেখান থেকে এসেছি, যেখানে আমাদের পরিবার বেড়ে উঠেছে এবং আমাদের স্মৃতি রয়েছে- আমরা যেন তাকে ভুলে না যাই।

ওজিল বর্তমানে জার্মানির নাগরিক। এ বিষয়টিকে তিনি ছোট করতে চান না। তিনি লিখেছেন, আমার দুটি হৃদয়, এর একটি হচ্ছে তুরস্ক, অন্যটি জার্মানি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here