ছয় মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ খেলেছে বাংলাদেশের মতোই। টেস্ট সিরিজের হতাশা ভুলে রঙিন জার্সিতে জয়োৎসব করেছেন মাশরাফিরা। স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্রথম ওয়ানডেতে হারিয়েছেন ৪৮ রানে। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম-সাকিবের রেকর্ড (২০৭ রান) জুটিতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে টাইগাররা। জবাবে ২৩১ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে থেমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ জয়। সব মিলিয়ে ক্যারেবিয়নদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অষ্টম জয় এটি। দুর্দান্ত এ জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে আগামী ২৫ জুলাই।

প্রস্তুতি ম্যাচের জয়টিই ছিল আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি। কেননা দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ব্যাটিং ব্যর্থতার প্রদর্শনী দেখানোর পর ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে বদ্ধপরিকর ছিলেন মাশরাফিরা। খেলার ফরম্যাট বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল বাংলাদেশও। দুই সিনিয়র ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান দেখালেন ব্যাটিং বীরত্ব। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটির রেকর্ড গড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় দ্বিশতক জুটির রেকর্ডেও নাম লেখালেন সাকিব। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি রেকর্ড গড়লেন সাকিব-তামিম মিলে। শুধু তাই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও এটি। এর আগে গেইলদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ১৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিক ও বিজয় (তৃতীয় উইকেটে)।

তামিম-সাকিবের রেকর্ড ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে নৈপুণ্য দেখান মাশরাফি-মোস্তাফিজরা। বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন কাপ্তান মাশরাফি। লুইসের উইকেটটি নেন অভিজ্ঞ এই পেসার। এর পর বোলিংয়ে এসে হোপের উইকেট তুলে নেন রুবেল, কিন্তু ক্রিস গেইলের ব্যাট থামছিল না। খুবই ধীরস্থির ব্যাটিং করে উইকেটে থিতু হয়েছিলেন। তবে মোসাদ্দেকের ওভারে গেইল (৬০ বলে ৪০) রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরায় ভয় দূর হয়। জেসন মোহাম্মেদের উইকেট মিরাজ তুলে নিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১১/৪।

এর পর জ্বলে ওঠেন মোস্তাফিজ। পরপর বলে হেটমেয়ার (৫২) ও পাওয়েলের উইকেট তুলে নেন। অধিনায়ক হোল্ডার ও রাসেলের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দুটি মাশরাফি তুলে নেওয়ার পর জয়ের সুবাস পায় টাইগাররা। ১০ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট পান মাশরাফি।

এর আগে ৪৪ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০৭ রান। এ অবস্থায় দ্রুত রান তুলে স্কোর বিদুৎ গতিতে বাড়ানোর বিকল্প নেই। তখন সেঞ্চুরির দ্বারেপ্রান্তে তামিম ও সাকিব। দলীয় স্কোর বড় করার অন্তিম মুহূর্তে তামিম সিঙ্গেল বের করে খেললেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ঝুঁকিটা নেন সাকিব। তবে বিশুর বলে সুইপের চেষ্টা করতে গিয়েই ধরা খেলেন। ব্যাটের কানায় লেগে হেটমেয়ারের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন সাকিব (১২১ বলে ৯৭ রান)। তবে ব্যক্তিগত ১৫ ও ৮৪ রানে ‘জীবন’ পেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে সেঞ্চুরি পান তামিম। ১৪৬ বল খেলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দশম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সবচেয়ে মন্তরগতির সেঞ্চুরির রেকর্ডও এটি। সেঞ্চুরির পর নামের পাশে ১৪ বলে আরও ৩০ রান যোগ করেন তামিম। তার অপরাজিত ১৩০ রানের ইনিংসটি ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো। অবশ্য ব্যক্তিগত ১৭ ও ২০ রানে দুবার ‘জীবন’ পান তামিমও।

ইনিংসের শেষ ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরে জমা পড়ে ৭২ রান। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব মুশফিকের। মাত্র ১১ বলে ৩টি ও ২টি ছক্কায় ৩০ রান করেন তিনি। এর আগে বিতর্কিত স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন সাব্বির। আবারও তামিমের সঙ্গী হয়ে নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বিজয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here