টেস্ট সিরিজের হতাশা উবে গেছে প্রথম ওয়ানডে জয়ের আলোক বিচ্ছুরণে। ক্যাপ্টেন মাশরাফির মনস্তাত্মিক লড়াইয়ের সঙ্গে ২২ গজে পেস বলের জমাটি রসায়ন; সব মিলিয়ে হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়ে উত্তুঙ্গ মনোবলে টাইগার শিবির। টেস্ট সিরিজে যেখানে জুটেছিল হোয়াইটওয়াশের লজ্জা, ওয়ানডে সিরিজে এক ঝটকায় চিত্র বদল। এবার সীমিত ফরম্যাটের ক্রিকেটে সিরিজ জয়ের হাতছানি।

আর সেটা হতে পারে আজই। তাও এক ম্যাচ হাতে রেখে। গায়ানার প্রভিডেন্সে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে।

প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ২১৯ রানের হার। দ্বিতীয়টিতে হারের ব্যবধান ১৬৬ রানে। ওয়ানডে সিরিজের আগে শঙ্কা ছিল চরমে। তবে প্রস্তুতি ম্যাচের জয় কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। যে ম্যাচে কয়েক মিনিটের জন্য মাঠে ছিলেন মাশরাফিও। খেলেননি সাকিব। তবে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নেমেছিল পূর্ণশক্তি নিয়েই। মাঠে নামার আগে মাশরাফির দীক্ষা কাজে দিয়েছিল পুরোদমে, ‘হৃয় উজার করে খেল দেশের হয়ে।’

তাতেই গায়ানায় বেজে উঠল সুর তরঙ্গ। ব্যাট-বলের দারুণ সমন্বয়ে ৪৮ রানের মধুর জয়। যে ম্যাচটিতে সুখকর রেকর্ডের পাশাপাশি ছিল অস্বস্তিকর ইনিংসও। তবে ম্যাচ শেষে দারুণ জয়ই উপভোগ করেছে সবাই। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম-সাকিবের রেকর্ড ২০৭ রান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টাইগাররে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস, ২৭৯; ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, তামিমের ধীরগতির সেঞ্চুরি, ১৪৬ বলে; পকেট ডায়নামো মুশফিকের ১১ বলে ৩০ রানের খ- ঝড়ো ইনিংস; বল হাতে মাশরাফির সর্বোচ্চ চার উইকেট, পাশাপাশি কৌশলী ক্যাপ্টেন্সি; সবই ছিল অদ্ভুত ভালো লাগার উপলক্ষ্য।

বিরুপ উইকেটে আগে ব্যাট করতে নেমে টাইগারদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৭৯। জবাবে পূর্ণ শক্তির ল নিয়েও পারেনি ক্যারিবীয় শিবির। ৫০ ওভারে সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২৩১ রান। ভয়ংকর ক্রিস গেইল অনেক থিতু হওয়ার চেষ্টা করেছেন ক্রিজে। ছিলেনও অনেক সময়। তবে খোলস ছেড়ে বের হতে পারেননি, তার আগেই রান আউট। ৬০ বলে তার করা ৪০ রান বড্ড বেমানান। গেইলকে খোলসবন্দি করে রাখাটাও ছিল বাংলাদেশের বড় কৃতিত্ব। না হলে চিত্র ভিন্ন হতে পারত।

আজ একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হাতছানি। প্রথমটি ২০০৯ সালে সাকিবের নেতৃত্বে। যদিও সেবার বিদ্রোহের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ল ছিল ভঙ্গুর। ফলে সেই বি টিমের সঙ্গে সেই সিরিজ জয় রেকর্ডের পাতায় থাকলেও স্বস্তিকর নয়। এবার মাশরাফির নেতৃত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপে নতুন করে ইতিহাস লেখার অপেক্ষা। দ্বিতীয় ম্যাচ সেন্ট কিটসে। যে মাঠটি তুলনামুলক ছোট। যা শাপে বর হতে পারে উইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানরে জন্য। আর তাই গানায়ানাতেই সিরিজ নিশ্চিত করতে চান সাকিব আল হাসান।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা যখন খেলতে নামি, অবশ্যই চাই প্রতিটি ম্যাচই জিততে। কালকে (আজ) আরও বেশি চেষ্টা করতে হবে, কারণ আমি নিশ্চিত যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করবে। এই ম্যাচে জিতে থাকতে পারলে সেন্ট কিটস নিয়ে আর টেনশনে থাকতে হবে না।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড আছে বাংলাদেশের নিজ মাটিতেই। সেটা ২০১২ সালের নভেম্বরে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩-২ ব্যবধানে। তবে ২০০৯ সালেরটি ছিল একতরফা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বি টিমকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা দিয়েছিল সাকিব শিবির।

আজ দুই দলের ৩০তম ওয়ানডের লড়াই। সিরিজ বাঁচাতে আজ প্রবল দাপটেই ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বাংলাদেশের চোখে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। ২৮ জুলাই তৃতীয় ম্যাচের জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো। সেটা যি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে রূপ নেয়, তখন কী ঘটবে ভাগ্যে, তা বলা মুশকিল।

বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন মাশরাফির চোখ তাই দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ ঘিরে। এই ম্যাচে জয় দিয়ে সিরিজ কব্জা করতে মুখিয়ে গোটা টাইগার শিবির। যেখানে প্রেরণা তো প্রথম ম্যাচের দারুণ জয়। এবার খোর বিষয় দ্বিতীয় ম্যাচেও মাশরাফির মন্ত্রে জ্বলে উঠতে পারে কি না বাংলাদেশ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here