শুধু মানুষ নয়, সন্তানকে সব প্রাণীই ভালোবাসে। সব মায়েরাই সন্তানকে প্রাণ দিয়ে আগলে রাখে। কিন্তু তারপরও কখনো কখনো নিষ্ঠুর বাস্তব সন্তানকে কেড়ে নিয়ে যায় মায়ের কাছ থেকে। আর তাতে মা যে বর্ণনাতীত কষ্ট পান তার সঙ্গে অন্য কোনো কষ্টের তুলনা হয় না। সম্প্রতি নিজের সদ্যোজাত সন্তানের মৃত্যুতে দু’দিন ধরে কেঁদে তারই আরেকটি প্রমাণ দিয়েছে এক মা তিমি।

প্রায় ১৭ মাস ধৈর্য ধরে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিল মা তিমি। মঙ্গলবার সকালে জন্মও নেয় তিমির কন্যা সন্তান। জে৩৫ খুনি তিমি প্রজাতিরই মাছ। শুধু তাই না, বিপন্ন তিমি প্রজাতিগুলোরও অংশ এটি। ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়, ভিক্টোরিয়ার কাছাকাছি জন্ম হয় শিশু তিমিটির। কিন্তু মা তিমিটি বুঝতে পারে তার সদ্য জন্ম দেওয়া বাচ্চাটির শরীরে কোনো সাড়া নেই। জন্মের একঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় সন্তান।

কিন্তু এত তাড়াতাড়ি সন্তানকে হারাতে হবে এমনটা ভাবতে পারেনি মা তিমি। সন্তান মারা যাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে কাঁদতে থাকে মা তিমিটি। কয়েক ঘণ্টা নয়, দেখা যায় দুদিন পরেও মৃত শিশুটিকে ভাসিয়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মা তিমি। সান জুয়ান আইল্যান্ডের সেন্টার ফর হোয়েল রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বিজ্ঞানী কেন বালকম্ব দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে এই তথ্য জানান।

ওয়াশিংটন সেন্টার ফর কনজারভেশন বায়োলজি ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ডেবোরাহ গিলস জানিয়েছেন, মা তিমিটি যা করে চলেছে সেটি খুবই কষ্টকর তার জন্য। তিমি বা ডলফিনের ক্ষেত্রে আরেকটি তিমি বা ডলফিনকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচাতে হলে পানির গভীরে যেতে হবে, নিজের শ্বাস ধরে রেখে অন্য প্রাণীটিকে এবং নিজেকে পানির ওপর শ্বাস নেওয়ার জন্য ভেসেও উঠতে হবে। মা তিমিটি শিশুটির মৃত্যুর পর বারবার এই কাজ করেই চলেছে। দুইদিন না খেয়ে ছিল তিমিটি।

ওয়াশিংটন সেন্টার ফর কনজারভেশন বায়োলজি ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ডেবোরাহ গিলস বলেন, ‘এই ঘটনা বাস্তব। আপনি অন্য কোনো উপায়েই এর ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। এ এমন একটি প্রাণী যা তার মৃত শিশুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে, কাঁদে এবং মৃত সন্তানকে কাছ ছাড়া করতেও চায় না। মানুষ যখন তার সন্তান হারায়, তাদেরও একই অনুভূতি হয়।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here