দেবরের বউয়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো কাজলী। আর সেই ঝগড়ার বলি হলো দেড় বছরের শিশু দ্বীপকে। জায়ের সঙ্গে প্রথমে রাগ করে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল কাজলী। ব্যর্থ হয়ে নিজের ছোট্ট ছেলেকেই শ্বাসরোধে হত্যা করে থানায় আত্মসমর্পন করে সে।

রোববার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের কাঁটাগেড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

তরুণী কাজল হেমব্রমের এই কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যান পুলিশ সদস্যরাও। ওইদিন দেড় বছরের ছেলে দ্বীপের দেহ কোলে নিয়েই থানায় যান কাজল। কোলের শিশু নড়ছে না দেখে পুলিশকর্মীরা খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা দীপকে মৃত ঘোষণা করার পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, অভিযোগ হয়নি। ওই নারীকে আটক করেছি। জায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন উনি। আমরা তদন্ত করছি।’ কাজলের স্বামীকেও ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের খবর, আড়াই বছর আগে খড়্গপুর গ্রামীণ থানার সাঁকোয়ার বাসিন্দা কাজলের সঙ্গে কাঁটাগেড়িয়ার বাপি হেমব্রমের(২৭) বিয়ে হয়। পেশায় দিনমজুর বাপি এবং তার দাদা ময়রা এলাকায় ভালো ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ সূত্রের খবর, কাজল সন্দেহ করতেন, বাপির সঙ্গে তার বৌদি সোমবারির সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে দুই জায়ের অশান্তি চলছিল। শনিবার বাপি এবং ময়রা জেলার অন্যত্র খেলতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছেলে দীপকে নিয়ে ছিলেন কাজল। সকালে কাজল তার একটি বাসন সোমবারির বাড়িতে দেখে চটে যান। ফের অশান্তি শুরু হয়।

খানিক পরে জা এবং শাশুড়ি শান্তি হেমব্রম মাঠের কাজে চলে যান।

পুলিশকে কাজল জানিয়েছেন, এরপরই রাগের চোটে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শিশুপুত্রের মুখে কাপড় চেপে ধরেন। বেলা ১১টায় স্থানীয়রা দেখেন, ছেলেকে কোলে নিয়ে কাজল গ্রাম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন। তখনও কেউ বোঝেননি কাজল কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

কাজল বলেন, জায়ের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। তাই আমি নিজেই ছেলেকে মেরেছি। জা বলেছিল আমার স্বামীকে নিয়ে নেবে। তাই মাথা ঠিক রাখতে পারিনি।

যদিও জা সোমবারি বলেন, আমি তো মজা করে বলেছিলাম, সত্যিই তোর স্বামীর সঙ্গে চলে যাব। কিন্তু এ জন্য কেউ নিজের ছেলে খুন করে!’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here