রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বেপরোয়া বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পুরো ঢাকা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ও এর আশপাশের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানববন্ধনের উদ্দেশ্যে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

এর পরপরই ফার্মগেট বাবুল টাওয়ারের সামনে স্থানীয় কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল আলম বলেন, সবগুলো স্পটে পুলিশ রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে সকাল সোয়া ১০টা থেকে মিরপুর-১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেয় কমার্স কলেজসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। সাড়ে ১০টা থেকে ওই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। এ সময় কয়েকটি বাস যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে উল্টো দিকে ঘুরে যেতে হয় চালকদের। তবে স্কুলগামী বাস, শিক্ষার্থী বহনকারী প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেওয়া হয়।

এ অবরোধে মিরপুর-১, ২, ১০ নম্বর গোল চত্বর, কাজীপাড়া ও ১১ নম্বর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধে শিক্ষার্থীরা বেপরোয়া বাসচাপায় নিহত সহপাঠীর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ওই সড়কে অবস্থান নিয়েছে। মিরপুর এলাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থী এসে বিক্ষোভে যোগ দিচ্ছে।

ওই এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা শিক্ষার্থীদের রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। অনেক অভিভাবককে বাচ্চাকে স্কুলে না দিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে।

দুপুর ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত, মোহাম্মদপুর থেকে মিরপুর হয়ে উত্তরা, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী এবং গাবতলী থেকে গুলশান নতুন বাজার পর্যন্ত রোডে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এসব রাস্তার বিভিন্ন স্থানে অনেক যাত্রীকে গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া মিরপুর কালশী রোড থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রোববার দুপুরে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম ওরফে মিম (১৬) নিহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর সমকালকে জানান, ঘটনার সময় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা র‌্যাডিসনের গ্যাপ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলো। অনেকে বাসের জন্য ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস এলে শিক্ষার্থীরা উঠতে চেষ্টা করে। তখন জাবালে নূর পরিবহনের আরেকটি বাস এসে আগের বাসটিকে বাম পাশে চাপাতে গিয়ে ওই দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে রোববার রাতে নিহত শিক্ষার্থী দিয়া খানমের (মিম) বাবা জাহাঙ্গীর আলম ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা বেরিয়ে এসে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

এরপর সোমবারও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের সড়ক কয়েক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সোমবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে মিরপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ ও গভার্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে তাদের তুলে দেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here