ঈদযাত্রায় মহাসড়কে কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হবে না বলে সতর্ক করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

সোমবার পুলিশ সদর দপ্তরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিং এ কথা বলেন তিনি। এ সময় মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদা আদায়ের মতো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘কুরবানির ঈদ, কুরবানির পশু ঢাকামুখী বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন জায়গা থেকে আসবে, সেজন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যেন পশুবাহী কোনো ট্রাককে অথবা পশুবাহী কোনো যানবাহনকে সেটা নদী বা রাস্তায় হোক সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তি ছাড়া আটকানো যাবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘উৎস বা বড় বড় বাজার থেকে যে পশুগুলো আসবে সেই ট্রাকগুলোতে, পশুর মালিকদের যানবাহনের সামনে একটা ব্যানার টানিয়ে নিন, কোথায় যাবেন, তাহলে আর রাস্তায় টানাটানি বা ঝামেলা হবে না।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের শনাক্ত করতে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনারকে প্রধান করে একটি টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী।

সাংবাদিকের ওপর হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, পুলিশ কতটুকু নিষ্ক্রিয় ছিল বা ছিল কি না তা তদন্ত হচ্ছে।

আইজিপি বলেন, গত ২৯ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিবাদ ছিল যৌক্তিক। তারা মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, আমরাও তাদের সহায়তা করেছি।

পরবর্তীতে অনুপ্রবেশকারীরা হীন উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের এখনও খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি পুলিশের ব্যর্থতা মনে করছি না। একদিনেই পুলিশ সব পারবে বিষয়টি তা নয়, কখনও এক ঘণ্টায় হয়, আবার কখনও একটু সময় লাগে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে ডিএমপিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনারকে প্রধান করে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করছে। আশা করছি, অচিরেই আমরা হামলাকারীদের শনাক্ত করে তাদের তথ্য উদঘাটনে করতে সক্ষম হবো।

৬-৭ আগস্ট থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কঠোর হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভালো কাজ হয়, কিন্তু সবচেয়ে বেশি সহজ গুজব ছড়ানো। বিভ্রান্তিকর পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়ানো কয়েকশ অনলাইন পোস্টদাতাকে আমরা শনাক্ত করেছি। ইতোমধ্যে ২১টি মামলা হয়েছে, সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। গুজব ছড়ানো কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ কাউকে হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে দেবে না।

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে সদর দফতরে একটি শক্তিশালী সাইবার মনিটরিং ইউনিট গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের মাধ্যমে নিয়মিত সাইবার পেট্রোলিং করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যেক জেলা পর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমগুলো মনিটরিং করা হবে।

এ সময় আইজিপি সবাইকে গুজবের ফাঁদে পা দিয়ে শান্তিপূর্ণ দেশকে অশান্ত না করার আহ্বান জানান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here